ছবির ক্যাপশন:
জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়ন ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের উদ্যোগে যাদবপুর গ্রামে অফিস উদ্বোধন ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে অফিস উদ্বোধন ও পথসভা করেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির অ্যাড. রুহুল আমিন।
পথসভায় তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে চায়। জামায়াত ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে আমরা মানবতার কল্যাণে আত্মনিয়োগ করব।’ রুহুল আমিন আরও বলেন, ‘আমরা মানুষের পাশে থাকতে চাই। জামায়াতে ইসলামী নেতারা দলকানা জনপ্রতিনিধি হতে চাই না। আমরা জনপ্রতিনিধিদের জনগেণের নিকট জবাবদিহিতার কালচার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। জামায়াতে ইসলামী করতে কলিজা লাগে। মুরগীর কলিজা নিয়ে জামায়াতে ইসলামী করা যায় না। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের হাজার আঘাতেও জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা রাজপথে দাঁড়িয়ে ছিল। জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি দিয়েও থামানো যায়নি এ দলের জানবাজ কর্মীদের। জুলুম, নির্যাতন সহ্য করেই জামায়াত আজ এই অবস্থানে এসেছে।’
জেলা জামায়াতের আমির বলেন, ‘চালক ভাইয়েরা ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তারা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট করবেন। জামায়াতে ইসলামী দেশের শ্রমিক সমাজসহ সাধারণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চাওয়া-পাওয়াকে মাথায় নিয়ে দেশ পরিচালনা কররে। দাঁড়িপাল্লা সাধারণ মানুষের প্রিয় প্রতীক।’
তিনি বলেন, ‘যারা শ্রমিকদের বন্ধু হবে না, তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করুন। আমরা শ্রমিকদের উত্তম বন্ধু হতে চাই। জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে এ দেশে শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ উন্নত করা হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য ন্যূনতম মুজুরি ধার্য করে দেয়া হবে। আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে উন্নতি দুর্নীতি একসাথে চলবে না। সবরকম দুর্নীতিকে জাদুঘরে পাঠানো হবে। টাকা ছাড়াই আপনার সন্তানকে চাকরির ব্যবস্থা করতে চাই। জামায়াত মানুষের হক তার দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চায়। আমরা শাসক নই বরং জনগণের সেবক হতে চাই। জীবননগর হাসপাতালকে আধুনিকায়ন করে স্বাস্থ্য সেবার মান আরও উন্নত করা হবে। বৈচিত্র্যময় কৃষি প্রধান জীবননগর এলাকায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হবে।’
সীমান্ত ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল ওয়াহেদের সভাপতিত্বে পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান, জেলা পেশাজীবী পরিষদের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক খলিলুর রহমান, জেলা তালিমুল কুরআন বিভাগের সভাপতি মাওলানা মহিউদ্দীন, জেলা প্রশিক্ষণ সম্পাদক জিয়াউল হক, জেলা উলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা ইসরাইল হোসেন, জেলা মাজলিসুল মুফাসসিরিন পরিষদের সভাপতি মাওলানা হাফিজুর রহমান, জীবননগর উপজেলা আমির মাওলানা সাজেদুর রহমান, নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন, সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, জেলা শ্রমিককল্যাণ ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি মহসিন এমদাদুল্লাহ জামেন, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি মাজেদুর রহমান লিটন, সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম, সীমান্ত ইউনিয়ন যুব বিভাগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহামান, জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম, মিজানুু রহমান, সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবু বকর সিদ্দিক।
