চুয়াডাঙ্গায় গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে অংশীজন সমন্বয় সভা

৪০টি ইউনিয়নে চলছে কার্যক্রম, শিগগিরই নতুন প্রশিক্ষণ

আপলোড তারিখঃ 2025-10-24 ইং
চুয়াডাঙ্গায় গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে অংশীজন সমন্বয় সভা ছবির ক্যাপশন:

গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত অংশীজন সমন্বয় সভায়। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (স্থানীয় সরকার) শারমিন আক্তার। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। সভায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ও গুরুত্ব তুলে ধরে ভিডিও প্রদর্শন করেন গ্রাম আদালত প্রকল্পের জেলা ম্যানেজার আসাদুজ্জামান। পরে আদালতের প্রচার-প্রচারণা, জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং স্থানীয় নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।


সভায় জানানো হয়, চুয়াডাঙ্গা জেলার মোট ৪০টি ইউনিয়ন পরিষদে বর্তমানে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৩১টি এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৯টি ইউনিয়ন যুক্ত হয়। প্রতি বুধবার এসব ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। শিগগিরই ১৮ জন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে নিয়ে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে আলমডাঙ্গার জেহালা ও জীবননগর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের এজলাস নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। ইউএনডিপির উদ্যোগে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতের সাইনবোর্ড স্থাপন করা হবে।
সভায় জানানো হয়, বর্তমানে গ্রাম আদালতে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত মামলা নিষ্পত্তি করা যায়, যেখানে কোনো আইনজীবী নিয়োগের প্রয়োজন নেই। এছাড়া নারীদের ভরণপোষণ সংক্রান্ত মামলাও এখানে নিষ্পত্তি করা হয়। ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত এই প্রকল্প চলবে, তবে এর কার্যক্রম পরবর্তীতেও অব্যাহত থাকবে।


সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবহিত করতে কলেজ পর্যায়ে বৈঠক করা যেতে পারে। পাশাপাশি হাটবাজারে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো দরকার।’
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, আগে গ্রামে বিচার পরিচালনা করতেন পঞ্চায়েত ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এখন গ্রাম আদালতের মাধ্যমে মানুষ আইনগত সুবিধা পাচ্ছে, যা একটি ইতিবাচক পরিবর্তন। যে চেয়ারম্যানই হোন না কেন বিচার যেন ন্যায়সঙ্গত হয়, সেটাই নিশ্চিত করতে হবে। আমরা সবাই সচেতনভাবে কাজ করলে গ্রাম আদালতের পরিধি আরও বাড়বে এবং জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও বলেন, গ্রাম আদালতের বিচার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে হলে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, এনজিও ও সামাজিক সংগঠন সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সচেতনতা ও প্রচারণা বাড়াতে হবে।


সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এম. সাইফুল্লাহ, শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাকসুরা জান্নাত, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ফিরোজ আহম্মেদ, জেলা তথ্য অফিসার শিল্পী মণ্ডল, ব্র্যাকের জেলা প্রতিনিধি মানিক ম্যাক্সিমিলিয়ান রুগাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ।
সভায় বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত হচ্ছে ইউনিয়ন পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ দ্রুত, সাশ্রয়ী ও সহজে ন্যায়বিচার পেতে পারেন। তবে এখনও অনেকেই এ সম্পর্কে জানেন না। তাই গণমাধ্যম, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সভায় অংশগ্রহণকারীরা একমত হন যে, প্রশাসন, এনজিও, সাংবাদিক ও সিভিল সোসাইটির সমন্বিত প্রচার কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ পর্যায়ে ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও দ্রুত বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)