ছবির ক্যাপশন:
দর্শনায় অবসরপ্রাপ্ত এক শিক্ষিকার বাড়িতে দিন-দুপুরে সংঘটিত দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় মূলহোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের কাছ থেকে আংশিক স্বর্ণও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, দর্শনা থানা পুলিশ গত মঙ্গলবার দিনভর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার বৃত্তিপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- দর্শনা মোহাম্মদপুর গ্রামের মৃত বারেকের ছেলে ও চিহ্নিত চোর ইসলাম (৪৩), কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার বৃত্তিপাড়া গ্রামের তাপস বিশ্বাস বাবুলের ছেলে স্বর্ণ ব্যবসায়ী তপন বিশ্বাস (৩৭), একই গ্রামের অমৃত কুমার কর্মকারের ছেলে স্বর্ণ ব্যবসায়ী অর্ণব কুমার (২৭) এবং দর্শনা আমতলাপাড়ার লিয়াকত আলীর স্ত্রী চায়না বেগম (৩০)। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দুটি স্বর্ণের আংটির ভাঙাচোরা অংশ উদ্ধার করে।
দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শহীদ তিতুমীর বলেন, ‘চুরির দিন আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি এবং ঘটনার পর থেকেই তদন্তে নামি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভেড়ামারায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে, দুটি স্বর্ণের আংটি ৪২ হাজার টাকায় বিক্রি করেছে। উদ্ধারকৃত ভাঙাচোরা স্বর্ণ তাদের কাছ থেকেই পাওয়া গেছে।’ তিনি আরও জানান, চারজনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং তাদের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে চুরির পূর্ণ রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর দুপুরে দর্শনা আমতলাপাড়ার কেরু উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা মনজু রানী ঘোষের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে সেদিন সকাল ৮টার দিকে তিনি স্কুলে যান এবং দুপুর ১টার দিকে ফিরে এসে দেখেন, চোরেরা ক্ল্যাসিবল গেট ও জানালার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে আলমারি ভেঙে নগদ ২ লাখ টাকা, ৭ জোড়া স্বর্ণের চেইন, ১২টি আংটি, ৭ জোড়া রুলি, নাকফুলসহ মোট ২১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মূল পরিকল্পনাকারীকে শনাক্ত করা গেলেও মামলার স্বার্থে নাম প্রকাশ করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
