ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে এই মানববন্ধন করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা। এসময় প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান বিচারপতিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাঈদ মাহমুদ শামীম রেজা ডালিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আহসান আলী।
অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন আকসিজুল ইসলাম রতন। মানববন্ধনে পাবলিক প্রসিকিউটুর (পিপি) মারুফ সরোয়ার বাবু, সরকারি কৌসুঁলি-জিপি আব্দুল খালেক, শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর-পিপি এমএম শাহজাহান মুকুল, সাবেক সভাপতি সেলিম উদ্দিন খান ও নুরুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম রফিউর রহমান ও আ.স.ম. আব্দুর রউফ, সিনিয়র আইনজীবী আব্দুস সামাদ, শহিদুল হক, ওয়াহেদুজ্জামান বুলা, শফিকুল ইসলাম ও মানি খন্দকারসহ আইনজীবীরা বক্তব্য দেন। এসময় জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ, সদস্যবৃন্দ এবং আইনজীবী সহকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধন শেষে জেলা আইনজীবী সমিতি থেকে মিছিল সহকারে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আহমেদ মাহবুব-উল- ইসলামের কাছে স্মারকলিপি তুলে দেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাঈদ মাহমুদ শামীম রেজা ডালিম। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নয়ন কুমার রাজবংশী উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ১৯৮৪ সাল থেকে চুয়াডাঙ্গায় জেলা জজ আদালত ভবনে বিচারপ্রার্থীদের বিচারকার্জ পরিচালিত হচ্ছে। ২০০৭ সালে বিচার বিভাগ থেকে পৃথক হওয়ার পর হতে জেলা জজ আদালত ভবনের কয়েকটা কক্ষ নিয়ে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অথচ, পাশর্^বর্তী জেলাগুলোতে আদালত ভবন নির্মাণ হলেও চুয়াডাঙ্গায় অদ্যাবধি চিফ জুডিসিয়াল ভবন নির্মাণ হয়নি। সেকারণে বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও মোহরারবসহ সংশ্লিষ্টরা কষ্টের মধ্যে কোনো রকমে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। চুয়াডাঙ্গায় জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসিতে ৭টি আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এরমধ্যে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন ছাড়া অন্যান্য আদালতের কক্ষগুলো অনেক ছোট হওয়ায় এজলাস চলাকালীন সেখানে আইনজীবীবৃন্দ, আইনজীবী সহকারীবৃন্দ ও বিচারপ্রার্থী জনসাধারণের একত্রে অবস্থানের কারণে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করে।
তাই অবিলম্বে চুয়াডাঙ্গায় চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণের দাবি করা হচ্ছে। পুরাতন জেলখানার পরিত্যক্ত এক একর জমি ভবন নির্মাণের জন্য রাখা আছে। পুরাতন জেলখানার জমিতে অবৈধ দখলদাররা স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা বাণিজ্য করছে। তাই অবিলম্বে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবৈধ স্থাপনা অবিলম্বে উচ্ছেদ করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুিপ্রম কোর্টের প্রধান বিচারপতি, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন উপদেষ্টা ও সচিব, চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ এবং চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর কার্যকর পদক্ষেপের জন্য অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
