ছবির ক্যাপশন:
ভালাইপুর প্রতিনিধি: আলমডাঙ্গার ভালাইপুর আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বহুমুখী ক্যাডেট স্কিম মাদরাসার শিশু ১০ ছাত্রকে বেদম পেটানোর ঘটনায় ওই মাদরাসার শিক্ষক রাশিদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল সোমবার মাদরাসা কমিটি এক জরুরী সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শিক্ষক রাশিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ করে ছাত্ররা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত রোববার শিক্ষক রাশিদুল ইসলাম তৃতীয় শ্রেণীর ক্লাসে গিয়ে ছাত্রদের ওপর হামলে পড়েন। তিনি মাদরাসা চত্বর থেকে গাছের ডাল ভেঙে নিয়ে ১০ শিক্ষার্থীকে বেদম পিটিয়ে রক্তাক্ত করেন। উপর্যুপরি পেটানোর কারণে ছাত্রদের সারা শরীরে কালচে দাগ পড়ে যায়। শিক্ষক রাশিদুল ইসলামের লাঠির আঘাতে গুরুতর জখম ছাত্ররা হলো- হাবিবুর রহমান, তানহা ওরফে স্বাধীন, রাজিব হোসেন, সাইমু ইসলাম, নিয়ামুল, আবির হাসান, জুবাইর, সালাউদ্দিন, সিয়াম ও তানজিল। এ ঘটনায় অভিভাবকরা অভিযোগ করেন মাদরাসা কমিটি ও প্রধান শিক্ষকের কাছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলার চিৎলা ইউনিয়নের ভালাইপুরস্থ আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বহুমুখী ক্যাডেট স্কিম মাদরাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার মাদরাসা কমিটি জরুরী সভার আয়োজন করে। সভায় অভিযুক্ত শিক্ষক রাশিদুল ইসলাম তার দোষ স্বীকার করে মাদরাসা কমিটি ও অভিভাবকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অনুষ্ঠিত জরুরী সভায় মাদরাসা কমিটির সভাপতি ও সকল সদস্যদের সম্মতিক্রমে শিক্ষক রাশিদুলকে এ মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানান মাদরাসা কমিটির সভাপতি মাওলানা শামসুল ইসলাম। তিনি আরো জানান, পরবর্তী সভায় স্থায়ী সিন্ধান্ত নেওয়া হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমিটির এক সদস্য জানান, শিক্ষক রাশিদুলের একাডেমিক কোন ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে চাকরী করছেন। এ বিষয়ে মাদরাসা কমিটির সভাপতি জানান, আগামী সভায় এ বিয়ষটি নিয়েও আলোচনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে, শিক্ষক রাশিদুল ইসলামকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
