ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের শুরুতে গত মাসের উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভার কার্যবিবরণী পাঠ করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী নির্বাহী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল আজাদ।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আহমেদ মাহবুব উল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী ইসলাম, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তিথি মিত্র, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল আমীন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, জেলা শিক্ষা অফিসার জেসমিন আরা খাতুন, চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ সুজাত কাজী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ, ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব, শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী দেলওয়ার হোসেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহিন্দ্র কুমার মন্ডল, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস, জেলা পরিবার পরিকল্পনা উপপরিচালক দীপক কুমার সাহা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান, মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপ-ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, জেলা নির্বাচন অফিসার, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফিরোজ আহমেদ, জেলা পরিসংখ্যান অফিসের উপপরিচালক শরিফুল ইসলাম, জেলা নির্বাচন অফিসার আহমেদ আলী, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মাকসুরা জান্নাত, জেলা সমবায় অফিসার কাজী বাবুল হোসেন, জেলা তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডল, জেলা মার্কেটিং অফিসার শহিদুল ইসলাম, জেল সুপার আসাদুর রহমান, বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রর যুগ্ম পরিচালক এ এফ এম শফিকুল ইসলাম, টিটিসির অধ্যক্ষ মুছাব্বেরুজ্জামান, জেলা মৎস্য অফিসার আবুল কালাম আজাদ, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক আব্দুল হালিম, ইসলামি ফাউন্ডেশন উপপরিচালক একেএম শহীন কবীর, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সমন্বয় সভাগুলো আমরা একটা প্যাটার্নে আনতে চাই, তাহলো যারা উন্নয়নমূলক কাজ করে, তাদের কাজ গুলো টু দ্যা পয়েন্ট আকারে শুনলে সুবিধা হয় এবং অন্যান্য ডিপার্টমেন্টগুলোর কাজ এখানে উপস্থাপন করা হয়, এবং তা বাস্তবায়নে কোন ডিপার্টমেন্টর সহযোগিতার প্রয়োজন আছে কিনা? কোথায় প্রতিবন্ধকতা আছে তা আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে পারি। এজন্যই কিন্তু এই সভাটা করা হয়।’
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘২৭ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি আয়োজন আছে, আপনারা সকল দপ্তরের প্রধানগণ উপস্থিত থাকবেন। যদি দপ্তরের কোনো আয়োজন ওইদিন থাকে, তাহলে সেটিও পরিবর্তন করার চেষ্টা করবেন। তবে ওইদিন সকলে উপস্থিত থাকবেন।’
সভায় জেলা প্রশাসক শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘বরাদ্দকৃত কাজগুলো দ্রুত শুরু করতে হবে। কাজের মান ভালো হচ্ছে কিনা, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। ভিক্টোরিয়া জুবিলি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বৃষ্টিতে যাতে পানি না বাধে, সেদিকে নজর রাখতে হবে।’
সভায় জেলা প্রশাসক পানি উন্নয়ন বোর্ডেও নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘জিকে প্রকল্পের জমি আপনাদের। এটির বর্তমান কি অবস্থা সেগুলো নিয়ে একটু ঘাঁটাঘাঁটি করেন। সমস্যা থাকলে ধীরে ধীরে সমাধান করতে হবে। মন্ত্রাণালয় এ বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে।’
সভায় সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দীন বলেন, ৪৮তম বিসিএস নিয়োগ পরীক্ষার স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে। এরপর পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ অন্যান্য কাজগুলো দ্রুতই সম্পন্ন হলে আমরা নতুন চিকিৎসক পাবো বলে আশা রাখছি। স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলছে।
সভায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ ওভার নির্মাণের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে, সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অধিগ্রহণের কাজ শেষের দিকে। অর্থ হস্তান্তরের পরই কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। তবে জমি মালিকরা অনুমতি দিলে কাজের অগ্রগতি আরও ভালো হবে। তাদের টাকা তারাই পাবেন।’
সভায় আজকের পত্রিকার চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মেহেরাব্বিন সানভী বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে খাবার ও ওষুধ ১০০ শয্যার, চিকিৎসক ৫০ শয্যার, ভর্তি থাকে ৩৫০ শয্যার মতো আর হাসপাতালে বেড আছে ২৫০ শয্যার। আজকের দিনে যদি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের কথা বলতে হয়, তাহলে বলতেই হবে হাসপাতালের ২২ জন চিকিৎসক পদেও মধ্যে ৯টি পদ ফাঁকা আছে। এই সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।’
এ সময় সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দীন বলেন, ‘আমাদের ২৫০ শয্যার পদ সৃজন হয়েছে। কিন্তু এর অর্থনৈতিক কোড তৈরি হয়নি, এজন্য আমরা এখানে জনবল পাচ্ছি না। এটা প্রক্রিয়াধীন আছে।’
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'আমরা বিভিন্ন স্থানে ওপেন হাউজ ডে করছি। জেলাতে আগে অফিসার কম ছিল, তবে এখন আমরা ৫ জন সিনিয়র অফিসার জেলাতে এসেছি। কিছুদিন আগের একটি ঘটনা ছিল, অ্যালকোহল পানে যে ৭ জন মারা গিয়েছে তার জন্য ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। এবং এই চক্রের যারা আছে সকলকে খুব দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে। কারণ ২০ জন মূল হোতা এবং আরো যারা সম্মিলিত আছে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের গোয়েন্দাদের তদন্ত চলমান আছে। আর মাদকের বিষয়টা এতটাই বেড়েছে এবং এতটাই ভিতরে গভীরে ঢুকে গেছে যে ব্যক্তি পর্যায় থেকে সচেতন না হলে মাদকের যে আগ্রাসন সেটা থেকে আমরা কোনো ভাবেই মুক্তি পেতে পারব না'।
চুয়াডাঙ্গা জেলা নির্বাচন অফিসার আহমেদ আলী বলেন, ‘দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে চুুয়াডাঙ্গাতে ৩৫৪ টি ভোটকেন্দ্র ছিলো, সেটা আমরা যাচাই বাছাই করে এবার ৩৪৯ টি খসড়া তালিকা করা হয়েছিল। অর্থাৎ ৫টি কেন্দ্র আমরা কমিয়েছিলাম। কমানোর কারণ হলো, একটি স্কুলে উত্তর ভবন এবং দক্ষিণ ভবন পুরুষ এবং মহিলা দুটি আলাদা ভোটকেন্দ্র আগে ছিলো। তবে এবার আমরা সেখানে একটি কেন্দ্র করে দিয়েছি, যাতে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রিজাইডিং অফিসার যাতে এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। আমরা যখন খসড়া প্রকাশ করেছি তখন আমাদের কাছে ১০টি দাবি এবং আপত্তি এসেছে, কিছু নতুন ভোটকেন্দ্র স্থাপন, কিছু ভোটকেন্দ্র স্থানান্তর ইত্যাদি দাবিগুলো যাচাই বাছাই করে আমরা ৮টি দাবি আবেদন মঞ্জুর করেছি এবং ২টি আবেদন নামঞ্জুর করেছি। এবারো চুয়াডাঙ্গায় ৩৫৪টি চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্র করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ইন্সপেক্টর খালিদ হুসাইন বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহের শনিবার আমরা বাজারে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণসংযোগ করি। যেমন আমরা গতসপ্তাহে হাসাদাহ বাজারে গণসংযোগ করেছি। এগুলো আমরা সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য করে থাকি।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে যে গাড়িগুলো দেওয়া হয়েছে, সেগুলো ১৬তলা অবধি অগ্নি নির্বাপণে কাজ করতে সক্ষম জেলা পর্যায়ে আমরা ম্যানুয়ালি করি, এতে আমরা ৬তলা অবধি করতে পারি। চুয়াডাঙ্গা জেলার ভিতর ৬তলার ওপরে বিল্ডিং আছে ৩টি। তার ভিতরে ২টা বিল্ডিংয়ে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা আছে, সাহিদ প্যালেস এবং ইমপ্যাক্ট ভবনে। মালিক টাওয়ার এখনো প্রসেসিং অবস্থায় আছে, ওনাদের কাজ চলমান। এছাড়া চুয়াডাঙ্গাতে যে বিল্ডিংগুলো আছে সেগুলোতে আমাদের যে প্রস্তুতি আছে, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আমরা মোকাবিলা করতে সক্ষম হবো। এছাড়াও এ সভায় বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
