ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার নূর মোহাম্মদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল নামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অপারেশনের পর এক নববধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার রাতে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর ওই নববধূর মৃত্যু হয়। নিহত গৃহবধূর নাম নাদিয়া (১৮)। তিনি নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়া এলাকার সামসুদ্দিনের মেয়ে। প্রায় দেড় মাস আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে আলমডাঙ্গার মাজু গ্রামের লাল্টু রহমানের ছেলে টাইলস শ্রমিক শিহাব (২২) এর সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে নাদিয়ার তীব্র পেটব্যথা শুরু হলে তাকে আলমডাঙ্গার নূর মোহাম্মদ মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষায় অ্যাপেন্ডিসাইটিস ধরা পড়ে। রাত ৮টার দিকে ডা. হোসেন ইমাম অপারেশন করেন এবং পরে কুষ্টিয়ায় চলে যান। অপারেশনের পর নাদিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে দ্রুত কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। তবে পথেই তার মৃত্যু হয়।
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের দাবি, অপারেশনের সময় রোগী আকস্মিকভাবে স্ট্রোক করেন। দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি।
তবে নিহতের পরিবার ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলেছে। শিহাবের বাবা লাল্টু রহমান বলেন, ‘ডাক্তার অপারেশন শেষ করে কুষ্টিয়ায় চলে যাওয়ার পরই রোগীর অবস্থা খারাপ হয়। ভুল চিকিৎসায় নাদিয়ার মৃত্যু হয়েছে।’
এদিকে বিয়ের কয়েকদিন পরেই নাদিয়ার বাবা সামসুদ্দিন ঢাকার দারুস সালাম থানায় শিহাবের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং অপহরণের মামলা করেছিলেন। মেয়ের মৃত্যুর পর শনিবার দুপুরে ওই মামলায় আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ শিহাবকে গ্রেপ্তার করে।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্তাধীন। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে মরদেহের ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি নিহত নাদিয়ার পিতার দায়ের করা অপহরণ মামলাতেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
