ছবির ক্যাপশন:
পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ ৫ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ইসলামী দলগুলো। গতকাল বুধবার পৃথকভাবে এ কর্মসূচি পালন করেন জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফথ মজলিস।
চুয়াডাঙ্গা:
জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান ও পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ ৫ দফা দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে জেলা শাখার উদ্যোগে পৃথক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সামনে পৃথকভাবে এ কর্মসূচি পালিত হয়। সকাল ১০টায় ইসলামী আন্দোলন ও বেলা সাড়ে ১১টায় একই স্থানে জামায়াত ইসলামীর উদ্যোগে মানববন্ধনে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও পিআরসহ ৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
৫ দফা দাবিগুলো হচ্ছে- জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশের মাধ্যমে গণভোট প্রদান করে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন করা; আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতিকে জুলাই জাতীয় সনদের অন্তর্ভূক্ত করে গণভোট প্রদান করা; অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সকলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা; ফ্যাসিস্ট সরকারের সকল জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা ও স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা। বেলা সাড়ে ১১টায় জামায়াত ইসলামী চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির অ্যাড. রুহুল আমিন। তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুসংহত করতে পিআর (চৎড়ঢ়ড়ৎঃরড়হধষ জবঢ়ৎবংবহঃধঃরড়হ) পদ্ধতির বিকল্প নেই। এই পদ্ধতিকে জাতীয় সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে জনগণের মতামত সরাসরি গণভোটের মাধ্যমে নেওয়া জরুরি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামী আদর্শভিত্তিক একটি রাষ্ট্র গঠনে জামায়াতে ইসলামী জনগণের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড ধারণ করেছেন। ৫ দফা দাবির প্রেক্ষিতে গত ১-৯ অক্টোবর সারা দেশে গণসংযোগ কর্মসূচি, ১০ অক্টোবর ঢাকাসহ সকল বিভাগীয় শহরে গণমিছিল, এবং ১২ অক্টোবর জেলা প্রশাসকদের নিকট স্মারকলিপি পেশ করার কর্মসূচিও আমরা সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। এসব কর্মসূচিতে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে যে, জামায়াতের দাবির প্রতি দেশের মানুষ পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করেছেন। সরকারের উচিত জনগণের মতামতকে শ্রদ্ধা করেই দ্রুত জামায়াতের ৫ দফা দাবি গ্রহণ করা এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ সুগম করা। যদি দাবি আদায় না হয়, তাহলে দেশের জনগণ রাজপথ ছাড়বে না।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাড. আসাদুজ্জামান, সহকারী সেক্রেটারি অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল, তালিমুল কুরআন বিভাগের সভাপতি মাওলানা মহিউদ্দিন, প্রশিক্ষণ বিভাগের সভাপতি জিয়াউল, সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি আলতাফ হোসেন, অর্থ সম্পাদক কামাল উদ্দিন, আইটি বিভাগের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ, যুব বিভাগের সভাপতি নুর মোহাম্মদ হুসাইন টিপু, আইন বিষযক সভাপতি দারুস সালাম, সভাপতি মাওলানা হাফিজুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা পৌর জামায়াতের আমির অ্যাড. হাসিবুল ইসলাম।
এর আগে সকাল ১০টায় কুরআন তিলাওয়াতের মধ্যদিয়ে ইসলামী আন্দোলনের শুরু হওয়া কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন মাওলানা মোহাম্মদ আলী। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি হাসানুজ্জামান সজিব। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সহসভাপতি মাওলানা জহুরুল ইসলাম আজিজী। সভায় সভাপতির বক্তব্যে হাসানুজ্জামান সজিব বলেন, ‘জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান করে পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে। দেশের মানুষ আর আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চায় না। গত ৫৪ বছর আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি পালাক্রমে ক্ষমতায় থেকেও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে। মানুষ এখন সেই অধিকার ফিরে পেতে চায়। জুলাই বিপ্লব সেই মৌলিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনের ফল।’ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা জহুরুল ইসলাম আজিজী, জেলা সেক্রেটারি মোহাম্মাদ তুষার ইমরান সরকার, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা সাজিদুর রহমান, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন জেলা সেক্রেটারি মাওলানা সাইফুল ইসলাম। সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় শিক্ষক ফোরামের জেলা সভাপতি হাসানুজ্জামান রনি, ইসলামী যুব আন্দোলনের জেলা সভাপতি মীর শফিউল ইসলাম, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, নির্বাচনের আগে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য অবশ্যই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সবাই সমানভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে এই ৫ দফা জাতির মুক্তির সনদ হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। শেষে সকল শহিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়ার মধ্য দিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি শেষ হয়।
অপর দিকে, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেল চারটায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে সংগঠনটি। মানববন্ধনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনটির জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জুবায়ের খান। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদকে আইনি স্বীকৃতি না দিলে অভ্যুত্থানের অর্জনকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দেয়া হবে। আমরা চাই, নির্বাচনের আগে সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত নিশ্চিত করা হোক।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পাঁচ দফা দাবির মূল কাঠামো অন্যান্য ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মিল থাকলেও পার্থক্য রয়েছে সংসদীয় কাঠামোতে। অন্যরা পুরো সংসদে অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (চজ) পদ্ধতি চায়, কিন্তু আমরা কেবল জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষে এ পদ্ধতি বাস্তবায়নের পক্ষে।’
মাওলানা জুবায়ের খান বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গায় মাদকের ভয়াবহতা ক্রমেই বাড়ছে। প্রশাসন তা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে এই জেলায় সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে জনগণের মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই, সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করুন।’ খেলাফত মজলিসের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, ১. জুলাই সনদের অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, ২. জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ, ৩. নির্বাচনে প্রকৃত লেভেল-প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত করা, ৪. জুলাই গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান করা, এবং ৫. জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষে অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (চজ) পদ্ধতি বাস্তবায়ন। মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে দোয়া পরিচালনা করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি মুফতি শোয়াইব আহমাদ কাসেমী। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি হাফেজ আশরাফ, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা তারিক মাহমুদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা সাইফুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা মারুফ হাসান, সদর থানা শাখার সেক্রেটারি মুফতি আহমাদ যুবায়ের, যুব মজলিসের সভাপতি আব্দুল হাই, মাওলানা মূসা নুর, মাওলানা মুতাসিম বিল্লাহ ও মাওলানা ফয়জুল্লাহ আল মুনির প্রমুখ। মানববন্ধনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, এই পাঁচ দফা বাস্তবায়িত হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরবে, জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে এবং আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে।
মেহেরপুর:
পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ ৫ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মেহেরপুর জেলা শাখা। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে মেহেরপুর প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজউদ্দিন খাঁন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুর রহমান, সেক্রেটারি ইকবাল হুসাইন, রাজনৈতিক সেক্রেটারি রুহুল আমিন, পৌর আমির ডলারসহ জেলার বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। এতে জনগণের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত হবে এবং জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি শক্তিশালী হবে। বক্তারা আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংশোধন, গণভোটের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক কাঠামো গঠনের দাবি আজ জাতীয় প্রয়োজন। েেজলা আমির মাওলানা তাজউদ্দিন খাঁন বলেন, আমরা গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের পক্ষে আন্দোলন করছি। জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত জামায়াত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
ঝিনাইদহ:
পিআর পদ্ধতিকে জুলাই জাতীয় সনদের অন্তর্ভুক্ত করে গণভোটের দাবিতে ঝিনাইদহে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল বুধবার সকালে শহরের পায়রা চত্বরে এ কর্মসূচির আয়োজন করে দলটি। এতে ব্যানার-ফেস্টুন হাতে জেলা, উপজেলা ও শহর শাখার নেতাকর্মীরা অংশ নেন। ঘণ্টাব্যাপী চলা এ কর্মসূচিতে জেলা জামায়াতের আমির আলী আজম মোহাম্মদ আবুবকর, নায়েবে আমির আব্দুল আলীম, সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল, সহকারী সেক্রেটারি কাজী ছগীর আহম্মেদ, জেলা বাইতুল মাল সম্পাদক তাজুল ইসলাম, শহর আমির অ্যাডভোকেট ইসমাইল হোসেনসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুসংহত করতে পিআর পদ্ধতির বিকল্প নেই। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে এই পদ্ধতিকে জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত করে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত নেওয়ার দাবি জানান। এছাড়া তারা জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ ঘোষণা ও আওয়ামী লীগ আমলের সব হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
