ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহসহ সারাদেশে একযোগে শুরু হয়েছে টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) টিকাদান কর্মসূচি। গতকাল রোববার পৃথক আয়োজনে এ তিন জেলায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।
চুয়াডাঙ্গা:
সারাদেশের মতো চুয়াডাঙ্গায়ও মাসব্যাপী টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) টিকাদান কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় চত্বরে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও পৌর প্রশাসক শারমিন আক্তার। এ কর্মসূচির আয়োজনে ছিল চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয়। এবার জেলায় মোট ২ লাখ ৭৭ হাজার ২৪৭ জন শিশু-কিশোরকে দেওয়া হবে একটি করে টাইফয়েড টিকা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শারমিন আক্তার বলেন, ‘টাইফয়েডের টিকা নিলে শিশু-কিশোরদের স্বাস্থ্যঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। এটি সরকারের একটি মহতী উদ্যোগ, যা বাস্তবায়নে সবার অংশগ্রহণ জরুরি। টিকা গ্রহণের জন্য অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে। তাই সবাইকে সচেতন হয়ে টিকা নিতে হবে এবং অন্যদেরও উৎসাহিত করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ডা. দীপক কুমার বিশ্বাস, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আওলিয়ার রহমান, জেলা তথ্য কর্মকর্তা শিল্পী মণ্ডল, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ প্রমুখ।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন বলেন, চুয়াডাঙ্গায় শুরু হওয়া এ টিকাদান কর্মসূচি এক মাসব্যাপী চলবে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার সব শিশু-কিশোরকে টিকার আওতায় আনতে শেষ দিন পর্যন্ত সচেতনতামূলক প্রচারণা অব্যাহত থাকবে।
আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গা পৌরসভার উদ্যোগে টাইফয়েড প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় শুরু হয়েছে মাসব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় আলমডাঙ্গা গার্লস স্কুল প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আক্তার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অশীষ কুমার বসু, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন, আলমডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লিয়াকত আলীসহ স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। উদ্বোধনকালে ডা. শারমিন আক্তার বলেন, ‘টাইফয়েড একটি সংক্রামক রোগ, যা মূলত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। টিকা গ্রহণের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে। সরকারের এই মহতী উদ্যোগ সফল করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘টিকা গ্রহণের জন্য অনলাইনে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। তাই এ বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে এবং সবাইকে অংশ নিতে উৎসাহিত করতে হবে।’ সরকারের এই কর্মসূচির মাধ্যমে ধীরে ধীরে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইউনিয়নে টাইফয়েড টিকা প্রদান কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, সরকারের এমন স্বাস্থ্যসেবা উদ্যোগে তারা সন্তুষ্ট এবং আশা করছেন, এর ফলে এলাকাজুড়ে শিশু-কিশোরদের স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।
দামুড়হুদা:
দামুড়হুদায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ‘টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৫’। গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার গোবিন্দহুদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কেএইচ তাসফিফুর রহমান। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দামুড়হুদা উপজেলায় দুই দিনব্যাপী এ টিকাদান কার্যক্রম চলবে বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। ৯ থেকে ১৫ বছর বয়সী মোট ৬৬ হাজার ৭৭০ জন ছেলে-মেয়েকে টাইফয়েডের টিকা দেওয়া হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হাসান, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রাফিজুল ইসলাম, দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামসুজ্জোহা পলাশ, গোবিন্দহুদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইকবাল হোসেন, সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মাওলানা কুতুব উদ্দিন ও নজরুল ইসলাম মণ্ডলসহ উপজেলা স্বাস্থ্যকর্মীরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, টাইফয়েড টিকা গ্রহণের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ রাখতে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুর স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে মেহেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের মিলনায়তনে একজন ছাত্রীকে টিকা প্রদানের মাধ্যমে জেলা পর্যায়ে এ ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. আবু সাঈদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পার্থ প্রতিম শীল, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. খায়রুল ইসলাম, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আঞ্জুমান আরা, মেহেরপুর জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক সিরাজুম মুনির, জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক আব্দুস সাত্তার, সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. ইনজামামুল হক, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. রোমানা হেলালী জুশি, সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষকদের তৌহিদুল ইসলাম, মেহেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা। ক্যাম্পেইন উপলক্ষে মেহেরপুর জেলায় ৯ মাস থেকে শুরু করে ১৫ বছর পর্যন্ত ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৯৭ জনের রেজিস্ট্রেশন করার লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে মেহেরপুর সদর উপজেলায় ৮০ হাজার ১৪৫ জন। গাংনী উপজেলা ৪৭ হাজার ৯৪৩ জন। মুজিবনগর উপজেলা ২৬ হাজার ৯৩৮ জন। এবং মেহেরপুর পৌরসভায় ১৩ হাজার ২৭১ জন। কিন্তু রেজিস্ট্রেশন করা হয় ৭১ হাজার ১৬৯ জনের। এর মাধ্যে সদর উপজেলায় ২৭ হাজার ৭২৫ জন। গাংনী উপজেলায় ২৮ হাজার ৭৪৫ জন। মুজিবনগর উপজেলায় ৮ হাজার ৯৭৫ জন।
