ছবির ক্যাপশন:
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার দেবতলা গ্রামে মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় ফাঁসিয়ে এক যুবককে গ্রামছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী দেবতলা গ্রামের আহাতাব কাজীর ছেলে রিপন কাজী।
সংবাদ সম্মেলনে রিপন দাবি করেন, গত বছরের ২৮ জুন একই গ্রামের রবিউল কাজীর বড় মেয়ে বগুড়ার শিহাব নামে এক যুবককে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। তারা বিবাহ বহির্ভূতভাবে স্বামী-স্ত্রী সেজে একত্রে বসবাস করতে থাকেন। বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
পরে, স্থানীয় মসজিদের ইমাম নুরুল ইসলামসহ কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি রবিউলের বাড়িতে গিয়ে ছেলেটি সম্পর্কে জানতে চান। তখন শিহাব নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিলেও পরবর্তীতে জানান, তিনি আসলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং বিভাগে কাজ করেন।
শিহাবের মিথ্যা পরিচয় প্রকাশ পেলে গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু শিহাব বিয়েতে রাজি না হওয়ায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। তখন রিপন কাজী শিহাবকে থাপ্পড় মারেন। এ ঘটনার জেরে রবিউল কাজীর পরিবার রিপনের ওপর প্রতিশোধের হুমকি দিতে থাকে।
রিপনের অভিযোগ, পুরনো শত্রুতার জেরে ২০২৫ সালের ৩ মার্চ রবিউল কাজীর ১১ বছর বয়সী মেয়েকে দিয়ে একটি মিথ্যা ধর্ষণের নাটক সাজানো হয় এবং সেই ‘ঘটনা’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে পুরো দেবতলা গ্রাম উত্তাল হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন সেনাবাহিনী মোতায়েন করে।
রিপন আরও দাবি করেন, এরপর রবিউলের নেতৃত্বে তাঁর সামাজিক গোষ্ঠী সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে রিপনের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। তিনি, তাঁর স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান নিয়ে প্রাণভয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। এখন তারা ঘরহারা, নিঃস্ব এবং চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, দায়েরকৃত ধর্ষণ মামলাটি ইতিমধ্যে তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অমিত কুমার ঘোষ চলতি বছরের ২৫ জুলাই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ঋরহধষ জবঢ়ড়ৎঃ) জমা দেন, যেখানে বলা হয় মামলাটি ভিত্তিহীন ও সাজানো। এছাড়া ১৫ মার্চ ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদনে চিকিৎসক ডা. সুলতানা মেফতাহুল জান্নাত উল্লেখ করেন, ভিকটিমের শরীরে ধর্ষণের কোনও আলামত পাওয়া যায়নি।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার বাদী রবিউল কাজী। তিনি দাবি করেন, ‘ঘটনাটি সত্য ছিল। কিন্তু ধর্ষণের ১১ দিন পর মামলা ও ১২ দিন পর মেডিকেল পরীক্ষার কারণে রিপোর্ট আমাদের পক্ষে আসেনি।’ তাঁর ভাষ্য, ‘আসামিপক্ষ টাকা খরচ করে মেডিকেল রিপোর্ট নিজেদের অনুকূলে নিয়েছে।’ তিনি জানান, তিনি বিষয়টি নিয়ে ডিএনএ টেস্ট করাবেন।
