ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল চত্বরে বাকপ্রতিবন্ধী এক যুবককে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় স্থানীয়রা জহুরুলকে জখম অবস্থায় উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। পরে ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় যুবসমাজের উদ্যোগে হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ করা হয়। আহত জহুরুল ইসলাম (৩০) পৌর এলাকার দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ার মৃত মাদার বক্সের ছেলে।
আহত জহুরুল ইসলামের বড় ভাই মনি বলেন, ‘আমার ভাস্তে মোবাইলে খবর দেয় জহুরুলের সঙ্গে কারও একটা সমস্যা হয়েছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ছুটে এসে দেখি আমার ভাইকে মারছে। আমি পরিচয় দিয়ে অনুরোধ করলেও সে শোনেনি। একের পর এক তিনটি কোপ দেয়। আমার ভাই বাকপ্রতিবন্ধী, সে কথা বলতে পারে না। তার সঙ্গে এরকম অমানবিক আচরণের বিচার চাই আমরা।’
এদিকে, ঘটনার পর হাসপাতাল চত্বরে স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে বিক্ষোভ করা হয়। এসময় তারা বলেন, ‘চা রাজু’ নামের এক ব্যক্তি চাঁদার দাবিতে জহুরুলের ওপর এই হামলা চালিয়েছে। সংক্ষিপ্ত এ বিক্ষোভে বক্তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইসরাত জেরিন জেসি জানান, জহুরুলকে রক্তাক্ত অবস্থায় জরুরি বিভাগে আনা হয়। তার পায়ে দুটি জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। জরুরি বিভাগ থেকে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ‘হাসপাতাল এলাকায় একটি মারামারির ঘটনা সম্পর্কে জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়। আহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমরা প্রাথমিকভাবে জেনেছি, টাকা-পয়সা লেনদেন নিয়ে রাজু নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে ভুক্তভোগীর বিরোধ ছিল, যার জেরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
