ছবির ক্যাপশন:
নির্যাতন ও মারধরের প্রতিবাদ করায় ছোট ভাই কালামের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে বড় ভাই লালনের বিরুদ্ধে। হামলায় মারাত্মক আহত হন কালাম। শুধু তাই নয়, আবারও হামলা চালানো ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হলেও থানা পুলিশ মামলা নিচ্ছে না বলেও দাবি করেছেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেদবাড়িয়া গ্রামে। ভুক্তভোগী কালাম হোসেন ওই গ্রামের মেসের আলীর ছেলে।
কালাম হোসেন জানান, বছর চারেক আগে পিতা মেসের আলীর সাথে বড় ভাই লালনের দ্বন্দ্বের কারণে পৈত্রিক ভিটা ছেড়ে গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় বাড়ি করে বসত শুরু করেন বড় ভাই লালন। তার পরও মাঝে মধ্যে এসে দ্বন্দ্ব-ফ্যাসাদে লিপ্ত হতো। শারীরিকভাবে কালামকে নির্যাতন করার কারণে কালাম দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যান। সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরে আসেন। চলতি মাসে বড় ভাই লালনের ছেলে শান্ত দাদার বাড়িতে এসে তার বাবার তৈরি ঘরে বসবাস করতে চান। দাদা মেসের আলী শান্তকে পিতার ঘরে জায়গা না দিয়ে নিজের ঘরে রাখেন।
শান্তকে তার নিজের তৈরি ঘরে থাকতে না দেওয়ায় গত ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় লালন হোসেন তার পিতা মেসের আলীকে গালমন্দ করেন ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন। এ সময় কালাম হোসেন পিতাকে নির্যাতনের প্রতিবাদ করলে বড় ভাই লালন হোসেন ও তার ছেলে শান্ত দেশীয় অস্ত্র হাসুয়া, রড ও বাঁশের লাঠি-শোঠা নিয়ে কালামের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ফ্রিজ, টিভি, শোকেসসহ ঘরে থাকা আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং শোকেসে থাকা নগদ ২ লক্ষ টাকা নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন কালাম হোসেনের পরিবার। হামলায় আহত হন তিনি। প্রতিবেশীরা কালামকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
কালাম হোসেন বলেন, নির্যাতন, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় গাংনী থানায় মামলা করতে চাইলেও থানা পুলিশ মামলা নেয়নি, শুধুমাত্র একটি জিডি নিয়েছে। মামলা না নেওয়ার পেছনে কোনো অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে বলেও দাবি করেন কালাম। এ ছাড়াও বড় ভাই লালন ও তার ছেলে আবারও হামলা চালানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে কালাম ও তার পরিবারের লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এ ব্যাপারে লালন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে জানান, ছোট ভাই কালাম পিতা মেসের আলীর সাথে হাত মিলিয়ে সব সম্পত্তি দখল করতে চায়। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব বাধে। তবে হামলার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। গাংনী থানার ওসি বানী ইসরাইল জানান, ঘটনাটি তিনি মনে করতে পারছেন না। ভুক্তভোগীকে থানায় যোগাযোগ করার জন্য এ প্রতিবেদককে জানানো হয়
