আলমডাঙ্গার তিন ইউনিয়ন পেল গ্রাম আদালত সাফল্যের স্বীকৃতি

পুরস্কার গ্রহণ করলেন ইউপি চেয়ারম্যানরা

আপলোড তারিখঃ 2025-09-26 ইং
আলমডাঙ্গার তিন ইউনিয়ন পেল গ্রাম আদালত সাফল্যের স্বীকৃতি ছবির ক্যাপশন:

আলমডাঙ্গা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে এখন ন্যায়বিচারের এক নতুন আলো জ্বলছে। আগে যেখানে ছোটখাটো দ্বন্দ্ব বা বিরোধ নিয়ে মানুষকে শহরের আদালতে ছুটতে হতো, সময় ও অর্থ খরচ করতে হতো, এখন সেই সমস্যার সমাধান হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে। এ উদ্যোগ শুধু বিচারপ্রক্রিয়াকে সহজ করে দেয়নি, বরং গ্রামীণ সমাজে সম্প্রীতি ফিরিয়ে এনেছে। জেলা পর্যায়ে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের বার্ষিক অগ্রগতি মূল্যায়নে এবার স্বীকৃতি পেয়েছে তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ- জেহালা, আইলহাঁস ও গাংনী।


বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদে সামাজিক দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, পারিবারিক সমস্যা, দেনাপাওনার ঝামেলা- এসব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা-মোকদ্দমার ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। আদালতের কোর্টকাচারি, আইনজীবীর খরচ, দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ন্যায়বিচার পাওয়া প্রায়শই কঠিন হয়ে দাঁড়াত। এ বাস্তবতায় গ্রাম আদালত কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ পেল বিকল্প সমাধান। ইউনিয়ন পরিষদেই যখন বিচার মিলছে, তখন গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে এটি হয়ে উঠছে ভরসার জায়গা।


চলতি বছরের বার্ষিক মূল্যায়নে প্রথম স্থান অর্জন করেছে আলমডাঙ্গা উপজেলার জেহালা ইউনিয়ন পরিষদ। পুরস্কার গ্রহণ করেন ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান (১) ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবীব বাবু। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে আইলহাঁস ইউনিয়ন পরিষদ। তাদের হয়ে পুরস্কার গ্রহণ করেন চেয়ারম্যান মিনাজ উদ্দীন বিশ্বাস। তৃতীয় স্থান পেয়েছে গাংনী ইউনিয়ন পরিষদ, পুরস্কার গ্রহণ করেন চেয়ারম্যান ইমদাদ মুন্সি।


স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক পুরস্কার প্রদানকালে বলেন, গ্রাম আদালত কার্যক্রম মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন পরিষদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, তারা কেবল পুরস্কারই পাচ্ছেন না, জনগণের আস্থা অর্জন করছেন।


জেহালা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবীব বাবু বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি যেন মানুষ সহজে ও দ্রুত ন্যায়বিচার পায়। এর ফলে গ্রাম আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে।’ আইলহাঁস ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিনাজ উদ্দীন বিশ্বাস বলেন, ‘গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ যে সেবা পাচ্ছেন, তা শুধু ন্যায়বিচার নয়, সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠার বড় ভূমিকা রাখছে।’ গাংনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইমদাদ মুন্সি বলেন, ‘গ্রামীণ জনগণের কাছে গ্রাম আদালত এখন নির্ভরতার নাম। গ্রামের ছোটখাটো বিবাদ এখন আর আদালতে গড়াচ্ছে না।’


স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রাম আদালত কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে প্রশিক্ষণ ও মনিটরিং জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে যাতে তারা প্রথমেই ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ন্যায়বিচার চাইতে পারেন।


চুয়াডাঙ্গার জেহালা, আইলহাঁস ও গাংনী ইউনিয়ন পরিষদ এ বছর পুরস্কার পেয়ে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা অন্য ইউনিয়নগুলোর জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তৃণমূল পর্যায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এ উদ্যোগ একসময় দেশের সব ইউনিয়নে শক্ত অবস্থান তৈরি করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)