ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। সভায় জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, জনসেবা এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, জেলার সার্বিক উন্নয়নে জেলা প্রশাসন সবসময় আন্তরিকভাবে কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা, জনস্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও কৃষি সব ক্ষেত্রে একযোগে কাজ করা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটলে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নেবে। নাগরিকদের কল্যাণ ও উন্নয়নে সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও অপরিহার্য। তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ভোট আয়োজনের জন্য আগাম প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জ্বালানি সাশ্রয় ও পরিবেশ রক্ষায় সব অফিসের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র (এসি) ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভা সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আহমেদ মাহবুব উল ইসলাম। সহকারী কমিশনার আশফাকুর রহমান আগস্ট-২০২৫ মাসের কার্যবিবরণী পাঠ করে জেলার উন্নয়ন অগ্রগতির সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন। তিনি জেলাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসনকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানান। এছাড়া শহরের রাস্তা-ঘাট ও বাজারগুলো পরিচ্ছন্ন রাখা, রেলওয়ে ওভারপাসের কাজ দ্রুত শেষ করা এবং শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করেন।
কার্যবিবরণীতে পিপিআর ভাইরাস সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করা, মাথাভাঙ্গা নদীতে বাঁধ দেয়া হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, ধান-চাল-গমের পর্যাপ্ত মজুদ রাখা, কৃষি সেচের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং কৃষিপণ্যের বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের মতো বিষয়গুলোও উল্লেখ করা হয়।
সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। তবে ৪৮তম বিসিএসে নিয়োগ পাওয়া চিকিৎসকরা যোগ দিলে এ সমস্যা দ্রুত কেটে যাবে। আগামী ১২ অক্টোবর ৬ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের টাইফয়েড টিকা দেয়া হবে। ২ লাখ ৭৮ হাজার লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ইতোমধ্যে ৮০ হাজারের বেশি নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। জন্ম সনদ দিয়েই টিকার নিবন্ধন করা যাবে। তিনি জেলাজুড়ে টিকাদান কার্যক্রম সফল করতে সব দপ্তরের সহযোগিতা চান।
পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা মানবপাচার রোধ ও ট্রাফিক আইন মানার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে বলেন, তথ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে জেলাব্যাপী ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। ওপেন হাউস ডে-তে সার সরবরাহ ও বিতরণে নানা সমস্যার অভিযোগ ওঠে এসব সমস্যা সমাধানে সচেতনতা ও প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করা জরুরি। শহরের বিদ্যমান সিসি ক্যামেরা কেবল শহরকেন্দ্রিক এলাকা কভার করছে। জেলাব্যাপী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ক্যামেরা স্থাপন দরকার।
চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ বলেন, জেলায় বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা উচিত। সরকার নির্ধারিত ১২৭০ টাকায় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার দোকানে পাওয়া যাচ্ছে না। বেশিরভাগ জায়গায় তা ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন তেলপাম্পে ভেজাল তেল বিক্রি ও কম পরিমাপের অভিযোগ রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা শহরের রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এই সমস্যাগুলোর সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা ও কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জেলার অভ্যন্তরীণ নদী ও পুকুরের মাছ উৎপাদন ও সংরক্ষণে সরকারি সহায়তার ওপর জোর দেন। জেলা তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডল জনসচেতনতা তৈরিতে তথ্য অধিদপ্তরের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম সালাউদ্দীন মনজু, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক জাহিদুল হাসান, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহসীন, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম সাইফুল্লাহ, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মেহেদী ইসলাম, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথী মিত্র, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-আমীন, সড়ক ও জনপদ বিভাগের প্রকৌশলী সুজাত কাজী, এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম, জেলা আনসার ও ভিডিপির সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট আবুল হাসনার মো. লতিফুল আলম, ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সিদ্দিকা সোহেরী রশীদ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দীপক কুমার সাহা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীন্দ্র কুমার মন্ডল, জেলা কৃষি বিপণন অফিসার সহিদুল ইসলাম, জেলা সঞ্চয় অফিসার নজরুল ইসলামসহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা।
সভা শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম আবারও জোর দিয়ে বলেন, চুয়াডাঙ্গাকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সব দপ্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টা দরকার। জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারলেই উন্নয়ন কার্যক্রম সফল হবে।
