ছবির ক্যাপশন:
ইমিগ্রেশনের সিল জালিয়াতি করে গ্রেপ্তার হয়েছেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ভারতে নিহত আনোয়ারুল আজিম আনারের জামাই ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা জুবায়ের হোসেন। গত বৃহস্পতিবার ভারতের গেদে ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। পরে তাকে বাংলাদেশের দর্শনা ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গত শুক্রবার জুবায়েরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
জুবায়ের হোসেন বাগেরহাট জেলার শ্মরণখোলা থানার রাজের গ্রামের হুমায়ুন কবিরের ছেলে। তিনি ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজিম আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিনের স্বামী। দর্শনা ইমিগ্রেশনের ইনচার্জ এসআই তুহিন হোসেন গতকাল শনিবার দুপুরে জানান, হাসিনা সরকারের পতনের পর জুবায়ের হোসেন গত বছরের ২৪ নভেম্বর বৈধভাবেই বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু সেখানে অবস্থানকালে বাংলাদেশি ইমিগ্রেশন সিল জাল করে ভুয়া গমন দেখান। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ থেকে না গিয়েও ভুয়া এন্ট্রি দেখিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করলে ভারতীয় পুলিশ তাকে হাতেনাতে আটক করে। এরপর তাকে দর্শনা ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে তারা। এ ঘটনায় দর্শনা ইমিগ্রেশনের এসআই তিনি হোসেন বাদী হয়ে জুবায়ের হোসেনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করেন।
দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহীদ তিতুমীর জানান, শুক্রবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানায়, ২০২২ সালে ৯ মে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে জুবায়ের হোসেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের হাতে আটক হয়েছিলেন। রাজধানীর সবুজবাগের গোড়ান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
র্যাব সূত্র জানায়, সে সময় জুবায়েরকে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আটক করা হয়েছিল। প্রাপ্ত তথ্যমতে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতো মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেন সাঈদী। তাকে অস্ত্র, গুলি ও মাদকসহ আটক করলে তাকে ছাড়িয়ে আনতে ঘটনাস্থলে যান জুবায়ের। এসময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা র্যাবের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন। জুবায়ের ও নেতাকর্মীরা র্যাবের সঙ্গে খারাপ আচরণ করলে র্যাব তাকেও আটক করে নিয়ে যায়।
এছাড়া অভিযোগ আছে, ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের টাকার বিনিময়ে ওই ইউনিটের অধীন বেশ কিছু থানা কমিটি দেন। সে সময় ছাত্রলীগের এই ইউনিটের থানা কমিটিগুলোয় যাদের নেতা বানানো হয়েছে, তাদের কারও কাছ থেকে ১০ লাখ টাকার কম নেওয়া হয়নি। তবে অনেকের কাছ থেকে এর দ্বিগুণ টাকাও নেওয়া হয়। টাকার বিনিময়ে ব্যবসায়ী-বিবাহিতদেও পদায়ন করা হয়। ঢাকার গেন্ডারিয়া, চকবাজার, টিঅ্যান্ডটি মাদ্রাসা, বংশাল, দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, লালবাগ, খিলগাঁও, রমনা ও শ্যামপুর ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের নামে কয়েক কোটি টাকার বাণিজ্য করেন এই জুবায়ের।
স্বামীর গ্রেপ্তারের বিষয়ে সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজিম আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে স্বামী গ্রেপ্তারের পর তিনি তার ভেরিফাইড ফেসবুকে তিনি লেখেন, “যেদিন থেকে আমার বাবা আমর কাছ থেকে চলে গেছেন, সেদিন থেকে আমার জীবনের সব সুখ শান্তি চলে গেছে। জীবন বড়ই নিষ্ঠুর।”
