ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডায় মাটি খুড়ার সময় উদ্ধার হয়েছে ভারতীয় প্রাচীন রুপি ভর্তি একটি পিতলের কলসি। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কার্পাসডাঙ্গা সাইকেল বাজার এলাকায় জমি খুঁড়ার সময় কলসিটি পাওয়া যায়। কলসির ভেতর থেকে ১ হাজার ৮৭৬টি এক রুপি মূল্যের ভারতীয় প্রাচীন মুদ্রা পাওয়া যায়। যার ওজন ২২ কেজি ৯০০ গ্রাম।
জানা গেছে, পুরনো দোকান ঘর সংস্কারের সময় মৃত দীনু মন্ডলের ছেলে শাহিদুল ইসলাম এক্সকেভেটর দিয়ে খননকাজ চালাচ্ছিলেন। এসময় সেখানে কয়েক ফুট মাটির গর্ত তৈরি হলে এই কলসি পাওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে কার্পাসডাঙ্গা ফাঁড়ি পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে কলসিসহ মুদ্রাগুলো উদ্ধার করে। খবর পেয়ে দামুড়হুদা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হামায়ুন কবীর ঘটনাস্থলে উপস্থিত যান। উদ্ধারকৃত সম্পদ পরে দামুড়হুদা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া প্রতিটি মুদ্রা ভারতীয় এক রুপি মানের হলেও এগুলোর গায়ে খচিত রয়েছে রাজা-রানীর মুকুটসহ নানা প্রতীক। এই মুদ্রাগুলোতে আঠারো ও উনিশ শতকের সময়কার বিভিন্ন বছরের সাল উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, সেসময় এই এলাকায় অনেক হিন্দু পরিবার বসবাস করতো। তাদের ধারণা, তৎকালীন হিন্দু পরিবারগুলো দেশ ভাগের সময় ভারত চলে যাওয়ার পূর্বে নিরাপদে রেখে যাওয়া এই সম্পদ হয়তো পুঁতে গিয়েছিলেন মাটির নিচে-যা আজ এতদিন পরে উদ্ধার হলো। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই মনে করছেন, উদ্ধার হওয়া রুপিগুলো সম্ভবত রৌপ্য বা রুপার মুদ্রা।
এ বিষয়ে উদ্ধারকারীর শহিদুল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমার বাবা জমিতে মাটি খুঁড়ছিলেন। হঠাৎই পিতলের একটি কলসি পাওয়া যায়। ভিতরে ছিল অসংখ্য পয়সা। আমরা নিজেরাও অবাক হয়ে যাই। হয়তো মাটির নিচে এতদিন আমাদের জন্যই এই সম্পদ লুকিয়ে ছিল। এই মাটি যেন আমাদের পরিবারের জন্য সৌভাগ্য এনে দিল।’
তবে এ বিষয়ে দামুড়হুদা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ন কবীর বলেন, ‘মুদ্রাগুলো বিভিন্ন সময়ের ও বিভিন্ন মানের বলে মনে হচ্ছে। এগুলো রৌপ্য মুদ্রা কি না, কিংবা কোন কোন ধরনের ধাতুতে তৈরি-তা নিশ্চিত হতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাচাই করব মুদ্রাগুলোর প্রকৃতি, মূল্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব।’
