চুয়াডাঙ্গা ভি.জে. সরকারি বিদ্যালয়ে বাঁশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে ভবন

ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণকাজ; নানা অনিয়মের অভিযোগ

আপলোড তারিখঃ 2025-09-20 ইং
চুয়াডাঙ্গা ভি.জে. সরকারি বিদ্যালয়ে বাঁশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে ভবন ছবির ক্যাপশন:

চুয়াডাঙ্গা জেলার ভিক্টোরিয়া জুবিলি (ভি.জে.) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছয়তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ৮ কোটি ৯৪ লাখ ১৮ হাজার ৬০০ টাকা বরাদ্দকৃত এই প্রকল্পে সরকারি নির্দেশনা ভেঙে স্টিলের পরিবর্তে বাঁশ ও কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে শাটারিংয়ের কাজে। এর ফলে ভবনের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, পাশাপাশি বিদ্যালয়ের মতো ব্যস্ত পরিবেশে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা। তবে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।


চুয়াডাঙ্গার ভিক্টোরিয়া জুবিলি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় ঢাকার মিরপুরের মেসার্স মিরন এন্টারপ্রাইজ। ৮ কোটি ৯৪ লাখ ১৮ হাজার ৬০০ টাকা বরাদ্দ পাওয়া এই নির্মাণকাজটি মেসার্স মিরন এন্টারপ্রাইজের নামে হলেও তাদের হয়ে এখানে কাজটি দেখাশোনা করছেন চুয়াডাঙ্গার কয়েকজন স্থানীয় ঠিকাদার। ইতিমধ্যে এই নির্মাণকাজের ভিত, প্রথম তলার সিঁড়ি ও প্রথম তলার ছাদসহ বেশ কিছুটা সম্পন্ন হয়েছে। টেন্ডার অনুযায়ী, ছয়তলা ভিতবিশিষ্ট ছয়তলা একাডেমিক ভবন, স্যানিটারি, পানি সরবরাহ, বৈদ্যুতিককরণসহ নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটির নির্মাণে প্রথম তলার ছাঁদ, বিম ও পিলার ঢালাই দেওয়ার শাটারিংয়ে লোহা বা স্টিল ব্যবহারের কথা থাকলেও, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাঁশ ও নিম্নমানের কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। এদিকে, বিদ্যালয় খোলা অবস্থায়ও নির্মাণকাজ চলছে, অথচ কাজ চলাকালীন নির্মাণ এলাকায় কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী বা সুরক্ষাব্যবস্থা নেই। এর ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, ‘এটি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এখানে দুই শিফটে ক্লাস হয়, এবং বাচ্চারা এর পাশেই খেলাধুলা করে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে? শুনেছি, বাঁশের শাটারিং খুলে পড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।’ তারা দাবি করেছেন, দ্রুত এই বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।


এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেসমিন আরা খাতুন নির্মাণকাজে বাঁশ ও কাঠ ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘শিডিউল অনুযায়ী লোহা বা স্টিল ব্যবহারের কথা ছিল। আমি নিজে এটি দেখার পর ইঞ্জিনিয়ারকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেছিলেন, সাময়িকভাবে এগুলো ব্যবহার করা হয়েছে, ঢালাইয়ের সময় তুলে নেওয়া হবে। তবে তারা তা করেননি।’ 

তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আশরাফুল আলম রুবেল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘কাজের কোনো সমস্যা নেই, আপনার সমস্যা কী?’


এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না। আমরা সব বিষয়ে সতর্ক রয়েছি। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নজরেও বিষয়টি এসেছে এবং তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।’   

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)