ছবির ক্যাপশন:
দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সম্প্রতি বিভিন্ন টেলিভিশন ও পত্রিকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুর্নীতির চিত্র প্রকাশের পর এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুদক ঝিনাইদহ সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক তরুণ কান্তি ঘোষের নেতৃত্বে একটি দল আকস্মিকভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করে। এসময় অতিরিক্ত পরিচালক (এডি) খালিদ মাহমুদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী এ অভিযান চলে।
প্রথমেই হাসপাতালের রান্নাঘর পরিদর্শন করে দুদক দল। সেখানে রোগীদের খাবার সরবরাহে অনিয়ম ধরা পড়ে। বিশেষ করে রোগীদের জন্য নির্ধারিত মাছ কম দেওয়া হচ্ছিল বলে প্রমাণ মেলে। এরপর নথিপত্র যাচাই করতে গিয়ে আরও বড় ধরনের অনিয়মের সন্ধান পায় দুদক। দেখা যায়, বাস্তবে কোনো অস্ত্রোপচার না হলেও খাতা-কলমে অপারেশন দেখানো হয়েছে। এতে সরকারি অর্থ অপচয় ও আত্মসাতের আলামত পাওয়া যায়। অভিযানের সময় এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন নথি ও কাগজপত্র জব্দ করা হয়। পাশাপাশি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য খাতেও খতিয়ে দেখা হয়েছে। এ অভিযানে হাসপাতাল এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
অভিযান শেষে দুদকের উপ-পরিচালক তরুণ কান্তি ঘোষ সাংবাদিকদের জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে খাবার সরবরাহে অনিয়ম ও ভুয়া অপারেশনের প্রমাণ মিলেছে। আরও অভিযোগ যাচাই চলছে, তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হেলেন আক্তার নিপা বলেন, ‘ঝিনাইদহ থেকে দুদকের একটি টিম এসেছিল। তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ফটোকপি করে নিয়ে গেছে।’ এদিকে, স্থানীয়রা এ অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, নিয়মিত এ ধরনের উদ্যোগ নিলে দুর্নীতি কমবে এবং সরকারি হাসপাতালের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।
