৩ মাস পর রোগীর পেটে মিলল গজ কাপড়

আলমডাঙ্গায় অপারেশনের নামে অমানবিক অবহেলা

আপলোড তারিখঃ 2025-09-16 ইং
৩ মাস পর রোগীর পেটে মিলল গজ কাপড় ছবির ক্যাপশন: হাসপাতালের বিছানায় সাহেরা খাতুন

আলমডাঙ্গার শ্রীরামপুর গ্রামের সাহেরা খাতুন (৫৫) নামের এক গৃহবধূর জীবন থমকে গিয়েছিল এক অপারেশনের পর। গত ২৫ মে আলমডাঙ্গার পপুলার মেডিকেল হাসপাতালে জরায়ুর টিউমার অপারেশন হয় তার। ডা. হুসাইন ইমাম ওই অপারেশন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু সেই অপারেশনের পর থেকে শুরু হয় অন্তহীন কষ্ট।


অপারেশন টেবিল থেকে নামার পরদিন থেকেই সাহেরার পেট ফুলে ওঠে, খাবার মুখে তুলতে পারতেন না। তীব্র যন্ত্রণা আর অসহ্য ব্যথায় তিনি টানা তিন মাস ছটফট করেছেন। পরিবার দিশেহারা হয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটেছে, তবু কোনো সুরাহা হয়নি। অবশেষে গতকাল সন্ধ্যা ছয়টায় তাকে ভর্তি করা হয় আলমডাঙ্গার ডক্টর কেয়ারস অ্যান্ড স্পেশালিস্ট হাসপাতালে। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন। অপারেশন থিয়েটারে গিয়ে সত্য প্রকাশ পায়- সাহেরা খাতুনের পেটের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে একটি পুরো গজ কাপড় (মব)।


চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ হাদী তিনি এই ঘটনাকে ‘ক্রস মেডিকেল নেগলেজেন্সি’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


তিন মাসের অবর্ণনীয় যন্ত্রণার পর পেটের ভেতর থেকে গজ কাপড় বের হওয়ার এ ঘটনা যেন চিকিৎসা ব্যবস্থার গাফিলতির নগ্ন উদাহরণ।  রোগিনীর স্বামী মোশাররফ হোসেন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, ‘চিকিৎসার জন্য নিয়ে গিয়েছিলাম পপুলারে, কিন্তু তিন মাস বউকে মৃত্যুর কষ্টে ছটফট করতে হলো।’ এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, চিকিৎসার নাম করে যদি ক্লিনিকেই এমন অমানবিক অবহেলা ঘটে, তবে রোগীর জীবন সুরক্ষা কোথায়?

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)