মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত এক লাখ মানুষ

জনবল ও ওষুধ সংকটে স্থবির গাংনীর তিন ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র

আপলোড তারিখঃ 2025-09-14 ইং
মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত এক লাখ মানুষ ছবির ক্যাপশন:

মাহাবুল ইসলাম, গাংনী: 
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এখন রুগ্ন অবস্থায়। ষোলটাকা, কাজিপুর ও ধানখোলা ইউনিয়নের প্রায় এক লাখ মানুষ বছরের পর বছর ধরে ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবার জন্য ভোগান্তিতে পড়ছেন। নেই ওষুধ, নেই প্রয়োজনীয় জনবল-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো কার্যত বন্ধই বলা চলে।


১৯৮৬ সালে চালু হওয়া এই কেন্দ্রগুলো এক সময় এলাকায় সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবার জন্য নির্ভরতার জায়গা ছিল। এখন সেই অবস্থা উল্টো। গত পাঁচ মাস ধরে কোনো ওষুধ সরবরাহ হয়নি। বন্ধ হয়ে গেছে নরমাল ডেলিভারি, প্রসূতি সেবা, কিশোর-কিশোরী স্বাস্থ্যসেবা ও প্রাথমিক চিকিৎসা কার্যক্রম।


প্রতিটি কেন্দ্রে চারটি অনুমোদিত পদের বিপরীতে মাত্র একজন করে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার কাজ করছেন। তাদেরও অধিকাংশ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করতে হয়। সপ্তাহে দুই-তিন দিন সীমিত সময়ের জন্য কেন্দ্র খোলা থাকলেও সেটা নিয়মিত নয়।


এদিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর ভবন ও আবাসিক কোয়ার্টারগুলো অপ্রচলিত, জীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কোথাও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, কোথাও আবার দরজা-জানালার অবস্থা এমন যে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না। সন্ধ্যার পর এসব জায়গায় চলছে মাদকের আসর-অভিযোগ স্থানীয়দের।


ষোলটাকা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো শুধু নামেই আছে। ডাক্তার-নার্স নেই, ওষুধ পাওয়া যায় না। অধিকাংশ সময় তালাবদ্ধ থাকে কেন্দ্রগুলো। সরকারের উচিৎ সাধারণ মানুষের সেবার এই দুয়ার যেন আবার খুলে দেয়া হয়।’


ধানখোলা ইউনিয়নের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান ফিরোজ বলেন, ‘পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে ডাক্তাররা থাকেন না। রাতবিরাতে রোগী হলে গাংনী, মেহেরপুর বা কুষ্টিয়ায় নিতে হয়। এতে অনেক সময় রোগী পথেই মারা যায়। নিয়মিত ওষুধ না থাকায় সমস্যাটা আরও বেড়েছে। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো যদি পূর্ণরুপে সেবা দিতে পারে তাহলে মানুষের ভোগান্তি অনেক কমে আসবে। ’ 


সম্প্রতি সহড়াবাড়িয়া গ্রামের এক কৃষক অসুস্থ হয়ে পড়েন। কাছাকাছি কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র খোলা না থাকায় পরিবারের লোকজন তাকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান। স্থানীয়দের মতে, কাছাকাছি কোনো কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা থাকলে ওই কৃষকের জীবন হয়তো রক্ষা পেত।


ষোলটাকা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপসহকারী মেডিকেল অফিসার শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘জনবল সংকট আছে, ওষুধেরও ঘাটতি রয়েছে। একজনের পক্ষে সব কাজ করা কঠিন। যথাযথ জনবল ও ওষুধ সরবরাহ পেলে কিছুটা হলেও সেবা দেওয়া সম্ভব।’


এ বিষয়ে মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. এ.কে.এম. আবু সাঈদ বলেন, ‘ওষুধের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সরবরাহ দেওয়া হবে। পাশাপাশি জনবল নিয়োগের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’ 

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)