চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য

প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলতে হুড়োহুড়ি, রোগীর গোপনীয়তা ভঙ্গ

আপলোড তারিখঃ 2025-09-10 ইং
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য ছবির ক্যাপশন:

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। চিকিৎসকদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতায় প্রতিদিন এই হাসপাতালে ঘটে চলেছে অস্বস্তিকর সব দৃশ্য। রোগীরা অভিযোগ করেছেন, চিকিৎসকের কক্ষ থেকে প্রেসক্রিপশন হাতে বের হওয়া মাত্রই কয়েকজন প্রতিনিধি ভিড় জমায়। তারা একপ্রকার জোর করে প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলে। তবে, অনেকেই প্রেসক্রিপশন দেখাতে রাজি হন না, যা নিয়ে হট্টগোলেরও সৃষ্টি হয়। এতে শুধু চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরাই বিব্রত হচ্ছেন না, সেবা ব্যবস্থার স্বাভাবিক পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে।

হাসপাতালের একাধিক সূত্র জানায়, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের একটি বড় অংশ চিকিৎসকদের পছন্দমতো ওষুধ বাজারজাত করতে এবং বিক্রি বাড়াতে প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলে রাখে। এতে পরে তারা নিজেদের মধ্যে প্রচারণা চালায় যে, অমুক ডাক্তার তাদের ওষুধ লিখেছেন। কিন্তু এর ফলে রোগীদের ব্যক্তিগত তথ্যও প্রকাশ পাচ্ছে। সপ্তাহে দুদিন রোববার ও বুধবার বেলা ১টা থেকে ২ টা পর্যন্ত হাসপাতালের বর্হিবিভাগে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা চিকিৎসকদের ভিজিটের জন্য নির্ধারিত। তবে, কোনো নিয়ম না মেনেই তারা সপ্তাহের সবদিনেই সকলা থেকে হাসপাতালে অবস্থান করেন এবং রোগীদের প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলছেন। এ বিষয়ে ওষুধ কোম্পানির একাধিক প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়, তবে কেউ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। 


হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রুবিনা খাতুন নামের এক গৃহিণী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি ডাক্তারের কাছে দেখাতে এসেছিলাম। প্রেসক্রিপশন হাতে পেয়েই দেখি ২-৩ জন লোক ভিড় করে ছবি তুলছে। আমি বাধা দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা বলছে, শুধু ছবি তুলবেন। তাদের ব্যবহার ভালো হলেও আমি ভীষণ বিব্রত হয়েছি।’


আরেকজন রোগী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পরই দেখি পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন প্রতিনিধি ওষুধ লিখতে লিখতেই মোবাইল উঁচু করছে। অনেক সময় ডাক্তারও কিছু বলেন না। এতে মনে হয়, রোগীদের গোপনীয়তার কোনো মূল্য নেই।’ 


হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা কলেজছাত্র সোহেল রানা জানান, ‘প্রতিদিনই এখানে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের আনাগোনা দেখি। কেউ একজন প্রেসক্রিপশন পেলেই তারা ছবি তোলে। এতে পরিবেশটা অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। আসলে হাসপাতাল প্রশাসন চাইলে এসব বন্ধ করতে পারে। কারণ চিকিৎসকের সঙ্গেই তাদের সক্ষতা।’


এ বিষয়ে হাসপাতালের একাধিক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বেশিরভাগ প্রতিনিধি চিকিৎসকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখে। ফলে তারা হাসপাতালের ভেতরে অনায়াসে ঘোরাফেরা করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাদের দৌরাত্ম্য আরও বেড়ে গেছে। জরুরি বিভাগে তো ইন্টার্ন চিকিৎসকরাও প্রেসক্রিপশন লেখেন সম্পূর্ণ ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের থেকে উৎকোচের আশায়।’


চুয়াডাঙ্গা জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব বলেন, ‘হাসপাতালের মতো জনস্বাস্থ্যকেন্দ্রিক জায়গায় রোগীর গোপনীয়তা রক্ষাই হওয়া উচিত প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অবাধ প্রবেশ ও কার্যক্রমে এই দায়িত্ব মারাত্মকভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন রোগীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে চিকিৎসা সেবার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে।’


চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রকীব সাদী বলেন, ‘ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের হাসপাতালে ভিজিটের জন্য সপ্তাহে দুদিন এক ঘণ্টা করে সময় নির্ধারণ করে দেয়া রয়েছে। এর বাইরে তারা চিকিৎসদের ভিজিট করতে পারবেন না। কিন্তু জনবলের অভাবে আমরা সব সময় নজর রাখতে পারছি না। বিষয়টি নিয়ে আমি তত্বাবধায়ককে জানাবো।’


এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ও জেলা রোগী কল্যাণ সমিতির সভাপতি ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা শিগগিরই কঠোর ব্যবস্থা নেব, যাতে হাসপাতালের ভেতরে প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলার মতো ঘটনা আর না ঘটে।’


সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)