ইটভাটায় জ্বালানির কাজে নিধন হচ্ছে এলাকার শত শত খেজুর গাছ : গাছের অভাবে কাজ ছাড়ছেন গাছি

আপলোড তারিখঃ 2017-11-04 ইং
ইটভাটায় জ্বালানির কাজে নিধন হচ্ছে এলাকার শত শত খেজুর গাছ : গাছের অভাবে কাজ ছাড়ছেন গাছি ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় মধুবৃক্ষ প্রস্তুতে ব্যস্ত গাছি : শীতে খেজুর রসে জমবে পিঠা-পায়েস উৎসব আকিমুল ইসলাম/আব্দুর রহমান জসিম: একটানা ক’দিন ভারি বৃষ্টি ও ভ্যাপসা গরমের পর গত সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে কুয়াশা। সেই সাথে রাতের ভাগে অনুভুত হচ্ছে হালকা শীতের আমেজ। দিনের বেলায় এখনও মাঝে মধ্যে আকাশে দেখা মিলছে ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘের আনাগোনা। দেশের অন্যান্য স্থানের ন্যায় চুয়াডাঙ্গা জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে খেজুর রস ও গুড়ের মৌসুম। জেলার উপজেলাগুলোর বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে মধুবৃক্ষ খেজুরগাছ থেকে রস আহরনের প্রস্তুতি। এরই অংশ হিসেবে এবার চুয়াডাঙ্গার তিতুদহ, দামুড়হুদা, জীবননগর ও আলমডাঙ্গার গাছিরা বেশ আগে ভাগেই নিজেদের কাজ শুরু করেছে। খেজুর গাছের ডেগো পরিস্কার, দা তৈরী, দড়ি কেনা ও ভাড় (কলস) কেনা, রস জ্বালানোর তাওয়া তৈরী, চুলা তৈরির স্থান নির্বাচন করাসহ রস সংগ্রহ ও খেজুরগুড় তৈরির নানা আয়োজনে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর থেকেই গ্রামবাংলার গৌরব আর ঐতিহ্যের প্রতীক মধুবৃক্ষকে ঘিরে জেলার গ্রামীন জনপদে শুরু হবে এক উৎসব মুখর পরিবেশ। মধুবৃক্ষ থেকে গাছিরা মিষ্ট সংগ্রহ করবে। এ সুমিষ্ট খেজুর রস জ্বালিয়ে তৈরী হবে গুড় ও পাটালি। আর হেমন্তের নতুন ধান ওঠার সাথে সাথে উপজেলার প্রতিটি গ্রামীন জনপদে শুরু হবে চালের আটা আর নলেন গুড় ও রসের তৈরি নানারকম পিঠা-পায়েসের উৎসব। আর গ্রামবাংলায় এ উৎসবের আমেজ চলবে পুরো হেমন্ত ও শীতকাল জুড়ে। এদিকে, চুৃয়াডাঙ্গা জেলা সদরের তিতুদহ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি খেজুরগাছ থাকায় এ অঞ্চলের গাছিরা বেশিই ব্যস্ত সময় পার করছেন। এছাড়া সরোজগঞ্জ বাজার হচ্ছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী গুড়ের বাজার। এই কারণ এ অঞ্চল আলাদা গুরুত্ববহন করে। এ অঞ্চলের খেজুর গাছের রস হতে উৎপাদিত গুড় দেশের বিভিন্ন জেলাসহ বিদেশে রপ্তানী করা হয়। এসব এলাকার তৈরি হওয়া গুড় বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে প্রতিদিন ২/৩ ট্রাক ভর্তি গুড় দেশের বিভিন্ন যায়গায় রপ্তানী হয় বলে জানায় গুড় ব্যবসায়ীরা। তাছাড়াও শীতের সময় মোকামীরা বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ঘুরে গুড় ক্রয় করে এবং গাড়ি ভর্তি করে বিভিন্ন এলাকার হাটে বিক্রি করে। তবে এলাকার কয়েকজন গুড় তৈরি কারকরা জানান, গুড় তৈরিতে এখন খুব একটা অগ্রহী নন, কারন হিসেবে জানান প্রতি ১ কেজি গুড় বানাতে শ্রম ও জ্বালানিসহ গাছিদের খরচ হয় ৪০/৪৫ টাকা। আর প্রতি কেজি গুড় বর্তমার বাজারে বিক্রি হয় ৫০টাকায়। এ কারণে গাছিরা গুড় বানাতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এছাড়া এলাকায় আগের মতো খেজুর গাছ আর নেই। প্রতিদিন স্থানীয় কয়েকটি ইটভাটায় জ্বালানির কাজে নিধন হচ্ছে এলাকার শত শত খেজুর গাছ। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে, দামুড়হুদা উপজেলা ছিল খেজুর রস, গুড় ও পাটালি উৎপাদনের অন্যতম প্রসিদ্ধ স্থান। এখনও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলতো বটেই তাছাড়াও দেশের বাইরেও দামুড়হুদার খেজুরগুড়ের বেশ কদর রয়েছে। তবে বর্তমানে নানা প্রতিকুলতায় খেজুর গুড়ের এ ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। গ্রাম বাংলার সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক এ খাতে সরকারি কোন পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় বর্তামানে আগের মত আর রস, গুড় উৎপাদন হয় না। উপজেলার নির্দিষ্ট কিছু গ্রাম ছাড়া সুঘ্রাণ নলেন গুড় পাওয়া যায় না। তা আবার চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম। ফলে শীত মৌসুমে যে রস, গুড় ও পাটালী তৈরী হয় তা নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে রীতিমত কাড়াকাড়ি শুরু হয়। ইতোমধ্যেই শহরের লোকজন গ্রামের গাছিদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছেন। আবার কেউ কেউ গাছিদের নিকট অগ্রিম টাকা তুলে দিচ্ছেন ভাল রস, গুড় ও পাটালী পাওয়ার আশায়। অগ্রিম টাকা পেয়ে অনেক গাছি কিনছেন রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির জন্য নানা উপকরণ। লোকনাথপুর গ্রামের গাছি খোরশেদ আলি বলেন, আমি প্রায় ২০/২৫ বছর যাবৎ খেজুর গাছ কাটছি। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও গ্রামের বিভিন্ন্ মাঠে প্রায় ২শ’ খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহের প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছি। চলছে খেজুর গাছ ঝোড়া ও চাছা-ছোলার কাজ। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আশা করি আর দিন দশেক পর থেকেই এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহ শুরু করা যাবে। তবে এ কাজে আগের মতো এখন আর ভাল লাভ হয় না। আগে এলাকার সব মাঠে ও গ্রামের আনাচে কানাচে খেজুর গাছ ছিল। বর্তমানে খেজুর গাছ দিয়ে ইট ভাটায় ইট পোড়ানোর ফলে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক খেজুর গাছ নিধন হচ্ছে। কিন্তু সেই তুলনায় খেজুরগাছ লাগানো হচ্ছে না। তাই খেজুর গাছ কমে যাওয়ায় এখন বেশি রস পাওয়া যায় না। গাছের অভাবে অনেক গাছিই এ কাজ ছেড়ে দিয়েছে। দামুড়হুদা উপজেলার সহকারি কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেকইে আবাদি জমির আইলে খেজুর গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছি। ইতোমধ্যে আমার আহ্বানে সাড়া দিয়ে অনেকেই তাদের কৃষি জমির আইলে খেজুরগাছ রোপন করতে শুরু করেছেন। আশা করা যায় আগামী দশ বারো বছর পর থেকে এসব গাছ হতে প্রচুর রস, গুড় ও পাটালি পাওয়া যাবে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)