ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক বাবদ বরাদ্দের ২৪ লাখ টাকার কোনো হদিস নেই। হাসপাতালের স্টোরে এসব উপকরণ না পৌঁছালেও বরাদ্দের টাকা ঠিকই তুলে নেয়া হয়েছে। কিন্তু সেই টাকা কী কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, তার কোনো উত্তরও দিতে পারেননি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুত কুমার। বিষয়টি জানাজানি হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। অনেকেই এই দুর্নীতিকে নজিরবিহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন।
জানা গেছে, গত পহেলা জুলাই চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী ক্রয় বাবদ ২০ লাখ টাকা এবং কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ আরও ৪ লাখ টাকার বরাদ্দের অনুমোদন দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এই টাকার জন্য উপকরণ ক্রয়ের নির্দেশও দেয়া হয়। কিন্তু দুই মাস পেরিয়ে গেলেও ওই টাকা দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী কিংবা কম্পিউটারের কোনো উপকরণ বুঝে পায়নি হাসপাতাল স্টোর। অথচ এই টাকা উত্তোলন করে খরচ হয়ে গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালের জন্য আর্থিক বরাদ্দে যেসব উপকরণ ক্রয় করা হয়, তা প্রথমে স্টোরকিপারের হাতে এসে পৌঁছায়। পরে সেসব উপকরণ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এই বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনো উপকরণ স্টোরকিপার বুঝে পাননি। অথচ পুরো বরাদ্দের ২৪ লাখ টাকাই উত্তোলন করা হয়েছে। হাসপাতালের একটি বিশ^স্ত সূত্র জানিয়েছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক বরাদ্দের টাকা ও উপকরণ তদারকি করেন। আবার তিনিই টাকা উত্তোলন করতে পারেন। কিন্তু এবারের বরাদ্দের টাকা কী কাজে ব্যবহার হয়েছে, তার কোনো হদিসই নেই।
এসব ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুত কুমারের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। উপকরণ ছাড়াই পুরো বরাদ্দের টাকা কী কাজে ব্যবহৃত হয়েছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে অনেক্ষণ নিশ্চুপ থাকার পর তিনি বলেন, ‘বিষয়টি দেখতে হবে। তারপর জানাতে পারবো।’ কিন্তু কবে কখন তিনি এই ব্যয়ের তথ্য জানাতে পারবেন, তা নিশ্চিত করে বলেননি।
জেলার প্রধান স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের এমন প্রকাশ্য দুর্নীতির খবরে হতবাক ও ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা ইউনিটের সাবেক সভাপতি নাজমুল হক স্বপন বলেন, ‘এর আগেও আমরা দেখেছি সিভিল সার্জনের দুর্নীতির খবর, সম্প্রতি দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুর্নীতির চিত্রও আমরা জেনেছি। এবার সদর হাসপাতালে এমন তথ্য জেনে হতবাকই হচ্ছি। পুরো বরাদ্দের টাকা কীভাবে পকেটস্থ হয়, তা আমাদের বোধগম্য নয়। স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের এই হাল হলে সেবার মান ভেঙে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।’
চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি রাজীব হাসান কচি বলেন, ‘এই বিষয়টি খুব গোপনীয় নয়। এমন প্রকাশ্য বরাদ্দের পুরো টাকাই যদি গায়েব হয়ে যায়, তাহলে অন্যান্য বরাদ্দের টাকা কী হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। বিষয়টির স্বচ্ছ জবাব আসা উচিত।’
