ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল সোমবার পৃথকভাবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও খাবার বিতরণ কর্মসূচি পালন করেন দলটির নেতা-কর্মীরা।
চুয়াডাঙ্গা:
নানা আয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি। এ উপলক্ষে গতকাল সোমবার দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদ চত্বরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। বেলা পৌনে ১১টায় সাহিত্য পরিষদ চত্বরে থেকে শহরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি সাহিত্য পরিষদ চত্বর থেকে সরকারি কলেজ রোড, কবরী রোড, পৌরসভা মোড়, শহিদ হাসান চত্বর চৌরাস্তা মোড় ও কোর্ট মোড় দোয়েল চত্বর প্রদক্ষিণ করে সাহিত্য পরিষদ চত্বরে ফিরে শেষ হয়।
পরে বেলা সাড়ে ১১টায় সাহিত্য পরিষদ চত্বরে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-কোষাধ্যক্ষ মাহমুদ হাসান খান বাবু। জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা ফরিদুল ইসলাম শিপলু ও সফিকুল ইসলাম পিটু অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টন।
আলোচনা সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন দর্শনা থানা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খাজা আবুল হাসনাত, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম নজু, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, আলমডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিণ্টু, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আখতার হোসেন জোয়ার্দার, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রোকন, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান লিপটন, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, আলমডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ওল্টু, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক পল্টু, চুয়াডাঙ্গা জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি এম. জেনারেল ইসলাম, জেলা মহিলা দলের সভাপতি রউফ উর নাহার রিনা, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশীদ ঝণ্টু, জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব ও বাড়াদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোবারক হোসেন, জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাবলু, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক জাহানারা পারভীন ও জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদ মোহাম্মদ রাজিব খান।
আরও বক্তব্য দেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খান, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক জুয়েল মাহমুদ, জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা আনোয়ার হোসেন, সদস্যসচিব হাফেজ মাওলানা মাহাবুব হক, জেলা আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাড. আ.স.ম. আব্দুর রউফ, সদস্যসচিব অ্যাড. মানজারুল হক জোয়ার্দার হেলালসহ জেলা বিএনপির সকল উপজেলা, পৌরসভা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মীসহ অঙ্গসংগঠন ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির উপ-কোষাধ্যক্ষ মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, ‘আজ আমাদের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা একত্র হয়েছি। মূল দলের বিভিন্ন পদধারী নেতা এবং অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এখানে উপস্থিত হয়েছেন। কিন্তু আজকে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার চারজন সৈনিককে বিশেষভাবে স্মরণ করছি, আমাদের নেতা মজিবুল হক মজু ভাই, ইমদাদুল হক ডাবু ভাই, দামুড়হুদা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল রহিম ভাই এবং আবু সাইদ। আমরা অনেক নেতাকে হারিয়েছি, তাদের মধ্যে এই চারজন আজ আমাদের মাঝে নেই। গত ১৬ বছরে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের নির্যাতন-নিপীড়নে হাজারো নেতা-কর্মী প্রাণ দিয়েছেন, গুম হয়েছেন, হারিয়ে গেছেন। এখনও তাদের পরিবার অপেক্ষা করছে- কবে তাদের বাবা, ভাই ফিরে আসবে।’
তিনি বলেন, ‘বাকশাল কায়েম করার পর আমাদের নেতা স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা করেছিলেন। তার ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। আজ আমরা যারা এখানে আছি, আমরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার গর্বিত সৈনিক। কেউ যদি এরশাদের মতো ফ্যাসিস্ট হতে চায়, হাসিনার মতো ফ্যাসিস্ট হতে চায়, তাদের পরিণতি ভয়াবহ হবে- পালানোরও সুযোগ পাবে না।’
তারেক রহমানের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বাবু খান বলেন, ‘আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান লন্ডন থেকে বারবার বলেছেন, ‘সঠিক পথে যাত্রা করতে হবে, জনগণের কথা শুনতে হবে এবং জনগণের সাথে থাকতে হবে। আমরা যদি জনগণের সাথে থাকি, জনগণের চোখের ভাষা বুঝতে পারি, তবে কখনো ফ্যাসিস্ট হয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না। সেই ভুল আমরা করব না।’
বিএনপির আত্মবিশ্বাসের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আমরা কেন এত আত্মবিশ্বাসী? কেন বলি একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমরা জয়লাভ করব? কারণ আমরা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। আমাদের প্রধান প্রতিপক্ষ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ হয়েছে, হয়ত চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ হবে। কারণ তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করতো না, ভারতের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করতো, ভারতকে তাদের নেতা মানতো।’ চুয়াডাঙ্গার নেতা-কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাবু খান বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গার নেতা-কর্মীদের কাছে আমার অনেক ঋণ। এই ঋণ আমি রক্ত দিয়েও শোধ করতে পারবো না। আগামীতে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপিকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি এবং এই অঙ্গীকার নিয়ে আজকের বক্তব্য শেষ করছি।’
সভাপতির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘আজকে এমন একটি দিন, ১৯৭৮ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সূচনা হয়েছিল। এই দল বারবার দেশের ক্রান্তিলগ্নে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে, পথ দেখিয়েছে। দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার আগে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ করে যুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন। আজ আমরা তাঁর সেই পতাকা বহন করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই-আগস্টে সারা দেশে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আন্দোলন চলেছে। ১৬ বছর ধরে আমরা সেই আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছি, যাকে ভুলে গেলে চলবে না। আমাদের নেতা তারেক রহমান বারবার সতর্ক করেছেন, ‘আন্দোলন শেষ হয়নি। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার এখনো ফিরে আসেনি। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র ফিরে আসবে না।’ দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘কথায় নয়, কাজে বড় হতে হবে। অন্য দলের সমালোচনার আগে নিজেদের দিকে তাকাতে হবে। আপনি দলের জন্য কতটুকু কাজ করছেন, সেটা বিবেকের কাছে প্রশ্ন তুলুন। কাজ করলে তা সামাজিকভাবেই দৃশ্যমান হবে, আলাদা করে প্রচার করতে হবে না।’ শরীফুজ্জামান নেতাদের প্রতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘নিজেদের মধ্যে কামড়া-কামড়ি বন্ধ করুন। বিএনপির নেতা-কর্মীরা একে অপরের বিরুদ্ধে ফেসবুকে লেখালেখি করছেন। অথচ সাধারণ মানুষ বিএনপির বিরুদ্ধে কিছু বলে না। বিএনপির ভেতরের বিভক্তিই এখন বড় সমস্যা। যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে, তাদের দরকার নেই। তারেক রহমান দেশে ফিরে আসলে এ ধরনের লোকদের বাদ দেওয়া হবে। দলের ভেতর থেকে লোক কমাতে হবে।’ বক্তব্যে শরীফুজ্জামান আরও বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন এবং যোগ্য ব্যক্তির পক্ষে মাঠে নেমেছি। আমাদের প্রতীক ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
জীবননগর:
নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে উদ্যাপিত হয়েছে বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। গতকাল সোমবার দিনব্যাপী জীবননগর পৌর ও ৮ ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে পৃথকভাবে বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, বর্ণাঢ্য র্যালি ও খাবার বিতরণের আয়োজন করা হয়।
গতকাল সোমবার সকালে জীবননগরে বিএনপির কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান কবীর, সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান ডাবলু প্রমুখ। এরপর বেলা সাড়ে তিনটায় পৌর বিএনপি, যুবদল, কৃষক দল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগ জীবননগর মুক্তমঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান কবীর, সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান ডাবলু, সিনিয়র সহসভাপতি তাজুল ইসলাম, জীবননগর উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আব্দুল হামিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আরসাফ হোসেন, সদস্যসচিব সুমন হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব রিমন প্রমুখ।
এদিকে পৃথকভাবে আন্দুলবাড়ীয়া, উথলী, কেডিকে, মনোহরপুর, বাঁকা, রায়পুর, হাসাদাহ ও সীমান্ত ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপিত হয়েছে।
ঝিনাইদহ:
দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ও ভারতীয় আধিপত্যবাদ রুখে দেওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে ঝিনাইদহে উদ্যাপিত হয়েছে বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। গতকাল সোমবার দুপুরে শহরের উজির আলী স্কুলমাঠ থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি শহরের পায়রা চত্বর হয়ে চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাজারো নেতা-কর্মী দৃষ্টিনন্দন প্লাকার্ড, ব্যানার ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র্যালিতে অংশ নেন। র্যালির নেতৃত্ব দেন ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ।
পরে স্বাধীনতা চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও পিপি অ্যাডভোকেট এস এম মশিয়ূর রহমান, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, বিএনপি নেতা শাহজাহান আলী, সাজেদুর রহমান পপ্পু, জেলা যুবদলের সভাপতি আহসান হাবীব রনক, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম পিণ্টু, মহিলা দলের সভাপতি অধ্যক্ষ কামরুন্নাহার লিজি, সাধারণ সম্পাদক তহুরা খাতুন, ছাত্রদলের সভাপতি এস এম সমিনুজ্জামান সমিন, সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মানিক ও সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলম প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ বলেন, ‘দেশে নির্বাচন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র বিএনপি মেনে নেবে না। শেখ হাসিনা বিএনপি নিশ্চিহ্ন করতে গিয়ে নিজেই নাই হয়ে গেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।’
মেহেরপুর:
মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান বলেছেন, দীর্ঘদিনের বাকশাল বাংলাদেশ থেকে চলে গিয়েছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কারণে। আজ বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমাদের শপথ নিতে হবে, বাংলাদেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে না। বাংলাদেশ থেকে মুজিববাদকে চিরতরে ধ্বংস করতে হবে।
গতকাল সোমবার বিকেলে জেলা বিএনপির উদ্যোগে দলটির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান আরও বলেন, ১/১১ এর কুশীলবদের বিচার এদেশে করতেই হবে। ২০০৭ সালে যারা বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে বিএনপিকে বাদ দিয়ে নতুন দল গঠনের ষড়যন্ত্র করেছিল, তাদের বিচার বাংলার মাটিতে হবেই। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ইতিহাস বিএনপি বারবার প্রমাণ করেছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন। বক্তব্য দেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ফয়েজ মাহমুদ, গাংনী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ উদ্দিন কালু এবং মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে একটি বিশাল র্যালি বের হয়। কলেজ মোড় থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ওয়াদা পাড়া মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
