চুয়াডাঙ্গায় পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিমুল কুমার

দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচারিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে

আপলোড তারিখঃ 2025-08-31 ইং
চুয়াডাঙ্গায় পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিমুল কুমার ছবির ক্যাপশন:

চুয়াডাঙ্গায় চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের উদ্যোগে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে এই কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এই কনফারেন্সের মূল উদ্দেশ্য হলো একে অপরের সাথে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদ্যমান ত্রুটি বিচ্যুতিসমূহ দূর করে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার কার্যক্রমকে গতিশীল করে মানুষের মাঝে ন্যায় বিচার প্রাপ্তির পথকে সুগম করা। বিচারিক কার্যক্রমের সাথে জড়িত সকল দপ্তরকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিচার ব্যবস্থাকে জনবান্ধব করে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে সহায়তা করা।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিমুল কুমার বিশ্বাস। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে এমন হয় যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে না, মাদকসহ কোনো আসামিকে ধরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থাপন করার কোনো সুযোগ নেই। সিআরপিসি ৬১ এবং বাংলাদেশ সংবিধানের আর্টিকেল ৩৩ ও ৩৫ এবং মাননীয় উচ্চ আদালতের একাধিক রেফারেন্সে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটদের এ বিষয়ে নির্দেশনা হলো, যদি এমন হয় যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে না, তাহলে বিজ্ঞ আমলি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করতে হবে। বিজ্ঞ আমলি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রেরণ না করে অন্য কোথাও প্রেরণ করা হলে তা আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। আপনারা দেখেছেন একাধিক এ ধরনের ঘটনায় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’


তিনি আরও বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচারিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা চাই, বিচার প্রক্রিয়া যেন সহজ, সঠিক এবং স্বচ্ছ হয়, যাতে জনগণকে কোনো ধরনের হয়রানি না ভোগ করতে হয়। পুলিশসহ অংশীদারি সকল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেটগণের সেতুবন্ধন সৃষ্টি করে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স। অংশগ্রহণকারী সংশ্লিষ্ট সকলে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে প্রতিবন্ধকতা দূর হবে। বিচার বিভাগের সকল অংশীদারদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মানুষের বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা সহজ হবে। ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় বিচারক, জেলা প্রশাসন, আইনজীবী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। আমাদের চুয়াডাঙ্গাতে একটি পিবিআই এর শাখা হওয়া উচিত। চুয়াডাঙ্গার অনেক মামলা। এসময় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট মাঠ পর্যায়ের সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।


চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসমিন নাহারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পিবিআই ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মো. গাজী রবিউল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কনক কুমার দাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল আল নাসের, সহকারী পুলিশ সুপার দামুড়হুদা সার্কেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ৬ বিজিবির সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. হায়দার আলী, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লাভলি নাজনীন, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তফা কামাল, পাবলিক প্রসিকিটর মো. মারুফ সারোয়ার বাবু, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবনালের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এস, এম, শাহজাহান মুকুল, চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাঈদ মাহমুদ শামীম রেজা ডালিম, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আহসান আলী, চুয়াডাঙ্গার জেলার মো. ফকর উদ্দীন, চুয়াডাঙ্গা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম, ডিবির পুলিশ পরিদর্শক মো. নাহমুল হোসাইন, চুয়াডাঙ্গা সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন অফিসার মো. ছানোয়ার হোসেন, কোট পুলিশ পরিদর্শক মো. নাসির উদ্দিন, চুয়াডাঙ্গার শহর ও যানবাহনের পুলিশ পরিদর্শক মো. আমিরুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) খালেদুর রহমান, আলমডাঙ্গা থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি)  মুহা. মাসুদুর রহমান, দর্শনা থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) শহীদ তিতুমীর, দামুড়হুদা থানার পুলিশ পরিদর্শক হিমেল রানা, জীবননগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মামুন হোসেন, পিবিআই ঝিনাইদহের পুলিশ পরিদর্শক রোকনুজ্জামান খান।


এসময় চুয়াডাঙ্গার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মারুফ সরোয়ার বাবু উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মাদক মামলার আসামিরা দ্রুত জামিন পাচ্ছে, কিন্তু গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। আবার বড় বড় স্বর্ণচোরাচালানে শুধুমাত্র ছোটখাটো পাচারকারীদের গ্রেপ্তার করলে এই অপরাধ বন্ধ হবে না। বড় বড় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা ধরা-ছোয়ার বাইরে থাকছে। যারা ক্যারি করে তাদের কয়েকজনকে মাঝে মাঝে আটকের পর পুলিশ রিমান্ড নিচ্ছে। আর বার বার একই কথা গুরুত্ব পূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে সেটি পুলিশ লিখছে। তাহলে স্বর্ণ ও মাদক চোরাচালানের গডফাদার বাইরে থাকছে কেন?’


এ সভায় একজন বিজ্ঞ বিচারকও পুলিশের রিমান্ডের পর ‘গুরুত্ব তথ্য পাওয়া গেছে’ লাইনটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উদ্বেগের সাথে বলেন, ‘আমি বিচারক, আমার অন্তত জানার অধিকার আছে। আমাকেও একই কথা বলা হচ্ছে, গুরুত্ব পূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এই চর্চা থেকে পুলিশের বের হয়ে আসতে হবে।’


সভায় চুয়াডাঙ্গার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাঈদ মাহমুদ শামীম রেজা ডালিম চুয়াডাঙ্গার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করা বিষয়ে সভায় একটি রেজুলেশন করে আবেদনের অনুরোধ জানান। প্রতিউত্তরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশ্বস্ত করেন।


সকাল ১০টা থেকে প্রায় দেড়টা পর্যন্ত দীর্ঘ এ কনফারেন্সে সর্বশেষ সভার কার্যবিবরণী অনুমোদন, সর্বশেষ সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি পর্যালোচনা, সমন জারী/গ্রেফতারি/হলিয়া ও ক্রোকি পরোয়ানা (পিএন্ডএ) তামিল/ দ্রুত প্রতিবেদন দাখিল, পুলিশ কর্তৃক মামলার সাক্ষী উপস্থিতকরণ, আদালতে আসা-যাওয়ার পথে এবং আদালত চত্বরে সাক্ষীদের নিরাপত্তা, ইনকোয়ারি বা ইনভেস্টিগেশনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ, সময়মত মেডিকেল সার্টিফিকেট/ময়না তদন্ত প্রতিবেদন/ফরেনসিক/ভিসেরা রিপোর্ট প্রাপ্তি; হুলিয়া জারী এবং সম্পত্তি জব্দ করার বিষয়ে দ্রুত প্রতিবেদন প্রাপ্তি, বিচারক ও ম্যাজিস্ট্রেটগণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আদালত চত্বরের নিরাপত্তা বিধান, সময়মত মালখানা হতে আদালতে আলামত উপস্থাপন, বিচারাধীন আসামিদের জেলহাজত হতে আদালতে সময়মত উপস্থিতকরণ, পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেসির মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা; মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য গ্রহণীয় পদক্ষেপ সমূহ: মামলায় জব্দকৃত আলামতের নিষ্পত্তি/ধ্বংসের ব্যবস্থাকরণ/নিলাম বিক্রয়ের বিষয়, পুলিশ রিমান্ড ও ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের নির্দেশনা প্রতিপালন হচ্ছে কি না তা তদারকি, পারিবারিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল, অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত প্রবেশন বিষয়ে গ্রহণীয় পদক্ষেপ সমূহ এবং সম্প্রতি সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের বিষয়ে পর্যালোচনা করা হয়।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)