ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দিগড়ী গ্রামের ঐতিহ্যবাহী বটতলা শত বছরের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে অটুটভাবে। প্রায় একশ বছর আগে রোপণ করা এই বিশাল বটগাছ শুধু একটি বৃক্ষ নয়- এটি গ্রামীণ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর মানুষের মিলনমেলার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। গরমের দিনে মাঠে কাজ শেষে কৃষকদের জন্য যেমন বটতলা এক চরম প্রশান্তির জায়গা, তেমনি পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধু-স্বজনদের নিয়ে আসা মানুষের জন্যও এটি হয়ে উঠেছে আড্ডা ও বিনোদনের অনন্য স্থান। গাছের ছায়াতলে বসে চা-কফির আড্ডায় মেতে ওঠেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ফলে বটতলাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে চায়ের দোকান, যেখানে শহর থেকেও অনেকে ছুটে আসেন।
স্থানীয়রা জানান, গ্রামের আমদ আলী প্রায় এক শতাব্দী আগে মৃত আবদার মিয়ার জমিতে বটগাছের চারা রোপণ করেছিলেন। পরবর্তীতে আবদার মিয়া ও তার উত্তরসূরিরা গাছটির যত্ন নেন। সময়ের সাথে সাথে বেড়ে ওঠা এই বটগাছ এখন দিগড়ী গ্রামের মানুষের কাছে প্রশান্তি ও স্মৃতির আশ্রয় হয়ে আছে। তবে আগের মতো জমজমাট পরিবেশ এখন আর নেই।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সুমন হোসেন ও আপন আলী জানান, ‘আগে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ আসত, এখন ব্যবসা অনেকটা কমে গেছে। সাতগাড়ী মোড় থেকে ওভারপাস এবং কুলচারা মোড় পর্যন্ত সড়কের বেহাল দশার কারণেই মানুষ আগের মতো বটতলায় আসতে চান না।’ তবুও শত বছরের ইতিহাস আর অগণিত স্মৃতিকে বুকে ধারণ করে দিগড়ী বটতলা এখনো টিকে আছে গ্রামের মানুষের মিলনমেলা, আড্ডা আর আনন্দঘন মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে।
