ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীনকে হঠাৎ বদলির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন স্থানীয় কৃষকরা। বদলিকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ আখ্যা দিয়ে গতকাল বুধবার বিকেলে আলমডাঙ্গার হাইরোড আল-তায়েবার মোড়ে তারা মানববন্ধন করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেন কৃষকরা। গত ২১ আগস্ট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক প্রজ্ঞাপনে রেহেনা পারভীনকে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে শতাধিক কৃষক অংশ নেন। তাদের অভিযোগ, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রেহেনা পারভীন মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি নিয়মিত মাঠে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং ভেজাল বীজ ও সার মজুতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন।
ডাউকি ইউনিয়নের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘যতদূর মনে পড়ে, কোনো কৃষি কর্মকর্তা মাঠে নেমে এভাবে কৃষকের পাশে দাঁড়াননি। তিনি না থাকলে আবারও দুর্নীতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।’ জামজামি ইউনিয়নের কৃষক লাল মিয়া বলেন, ‘রেহেনা পারভীন সৎ ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করেছেন। এ কারণেই প্রভাবশালী মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে।’
কৃষকরা অভিযোগ করেন, রেহেনা পারভীন মাঠপর্যায়ের কৃষকদের ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। তার উদ্যোগে সার পাচার ও মজুত বন্ধ হয়। এতে মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তার বদলির জন্য চাপ দিয়েছে। মানববন্ধন শেষে কৃষকদের প্রতিনিধি দল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মেহেদী ইসলামের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়। তিনি বলেন, ‘কৃষকদের দাবি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।’
যোগাযোগ করা হলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, ‘আমি সবসময় চেষ্টা করেছি কৃষকদের স্বার্থে কাজ করতে। মাঠে থেকে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোই ছিল আমার দায়িত্ব। বদলির বিষয়ে কিছু বলতে চাই না, তবে কৃষকদের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, রেহেনা পারভীন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আলমডাঙ্গায় কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। সার ডিলার পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং করায় ভেজাল সার ও মজুত অনেকটাই কমে যায়। এতে প্রভাবশালী এক শ্রেণির ব্যবসায়ী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। কৃষকদের অভিযোগ, মূলত এই চাপ থেকেই তার বদলির সিদ্ধান্ত হয়েছে।
