ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন দুজন সরকারি চাকরিজীবী ও একজন মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক। সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে তারা পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানার টানিয়ে জাকমকভাবে প্রচারণ-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মো. জামিরুল ইসলাম আলমডাঙ্গার পারদুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, সহসভাপতি পদে আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক শেখ শফিউজ্জামান এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিল্পব মাস্টার।
তাদের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অভিযোগ নোটিশ করায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সহকারী শিক্ষক জামিরুল ইসলামকে ‘কারণ দর্শানোর নোটিশ’ দিয়েছেন। তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক সাধারণ নির্বাচন আগামী ৩০ আগস্ট শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রুনু খন্দকার ও মো. জামিরুল ইসলাম। সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মো. জামিরুল ইসলাম উপজেলার বাদেমাজু গ্রামের জালাল খার ছেলে এবং পারদুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার সাংবাদিক। সরকারি করে অনুমতি ছাড়া সাংবাদিকতা করতে না পারলেও - জামিরুল ইসলাম দাপটের সঙ্গে সাংবাদিকতা করছেন।
এ ব্যাপারে আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের অপর সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী রুনু খন্দকার আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, একজন সরকারি চাকরিজীবী হয়ে কীভাবে পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার টানিয়ে জাঁকজমকভাবে নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে ভোট করতে পারেন? তাই আমি লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছি। এরই প্রেক্ষিতে আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আলাউদ্দীন তাকে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর জন্য নোটিশ দিয়েছেন। তিন কর্মদিবসের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
জামিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাকে শোকজ করেছে কর্তৃপক্ষ, আমি জবাব দেব। যদি কর্তৃপক্ষ আমাকে অনুমতি না দেয়, তাহলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবো।’ আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীন বলেন, অভিযোগ পেয়েই তাকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। এখনও জবাব দেননি তিনি। সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হেমায়েত আলী শাহ বলেন, সরকারি চাকরি করে কোনোভাবেই সাংবাদিকতা করা যায় না। উনি কীভাবে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তা আমার বোধগম্য নয়। তবে যেহেতু শোকজ করা হয়েছে। এ জবাব পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক তানভীর সোহেল, ১ নম্বর সদস্য প্রশান্ত বিশ্বাস, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার সদু, নির্বাহী সদস্য নাশির উদ্দিন ও রাকিবুল ইসলাম রানার মধ্যে দুজনের পদ স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু তাদের সদস্য পদ ছিল। ভোটার তালিকায় তাদের নাম না থাকায় তারা প্রেসক্লাবে সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর একটা দরখাস্ত দিয়েছে যার অনুলিপি কপি প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিরাজুল ইসলামকে প্রদান করেছেন। তাদের দাবি ভোটার তালিকা সংশোধনপূর্বক নতুন তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচন করলে প্রেসক্লাবের সুনাম অক্ষুণ্ন থাকে।
এদিকে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সকল সম্পাদক ও নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হয়ে গেছেন। বাকি ছিল সাধারণ সম্পাদক পদ ও সহসভাপতি পদে নির্বাচন তাও জামিরুল ইসলাম সরে দাঁড়ালে সাধারণ সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন রুনু খন্দকার। আর সহসভাপতি পদে একজন সরকারি চাকরিজীবী নির্বাচন করছেন বিধায় সেটাও বিতর্কিত হয়ে আছে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনার নতুন করে ভেবে দেখবে, না হলে চরম সমালোচনা মুখে পড়বে ঐতিহ্যবাহী আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের নির্বাচন।
