ছবির ক্যাপশন:
পাটের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য নতুন করে ফিরেছে ঝিনাইদহে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত সোনালি আঁশ এ বছর কৃষকের মুখে এনেছে অনাবিল হাসি। পর্যাপ্ত বৃষ্টি, সঠিক সময়ে পানির প্রাপ্যতা আর ভালো আবহাওয়ার কারণে জেলায় উৎপাদিত পাট হয়েছে মানসম্মত ও সোনালি রঙের। ফলে বাজারেও মিলেছে চড়া দাম। জেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ২১ হাজার ৪৪৬ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আবাদ হয়েছে ২০ হাজার ২২৯ হেক্টরে। এতে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৫২ হাজার ১১৬ মেট্রিক টন পাট।
হরিণাকুণ্ডুর পাটচাষি হাফিজুর রহমান জানান, এ বছর বৃষ্টি ভালো হওয়ায় পানির অভাব হয়নি। আঁশের রং হয়েছে ঝকঝকে সোনালি। বাজারে মনপ্রতি ৩৫০০ থেকে ৩৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই দামে খরচ উঠছে, ভালো লাভও থাকছে।
কৃষকের মুখে হাসি ফুটায় সবচেয়ে বেশি সরব ঝিনাইদহের ঐতিহ্যবাহী হাটফাজিলপুর ও ভাটই পাট বাজার। ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, এ বছর পাটের মান চমৎকার। কৃষকেরা দামও ভালো পাচ্ছেন। ফলে বাজারে সরবরাহ যেমন বেড়েছে, তেমনি বেচাকেনাও জমজমাট।
জেলা কৃষি উপপরিচালক ষষ্টি চন্দ্র বলেন, বৃষ্টিপাতের কারণে পানির ঘাটতি হয়নি। এ কারণে আঁশে এসেছে ঐতিহ্যবাহী সোনালি রং। কৃষকেরা এবার বাজারে ভালো দাম পেয়েছেন। এতে আগামী মৌসুমে পাট চাষে আরও আগ্রহী হবেন।
পাটের এই সাফল্যে আশাবাদী কৃষক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী পর্যন্ত সকলে। তাদের আশা, সরকারের সহায়তা ও সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা থাকলে ঝিনাইদহ আবার হয়ে উঠতে পারে দেশের সেরা পাট উৎপাদনকারী জেলা।
