ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গা উপজেলার পাঁচকমলাপুর গ্রামের হাজী শামসুজ্জোহা জামি'আ আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসায় কোমলমতি ছাত্রদের সাথে মধ্যাহ্নভোজ করেছেন চুয়াডাঙ্গার কৃতী সন্তান এনআরবি ওয়ার্ল্ড ও বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট, সাহিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব সাহিদুজ্জামান টরিক। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের সাথে যোহরের নামাজ আদায়ের পর মধ্যাহ্নভোজ সারেন তিনি। এর আগে মাদ্রাসার কোমলমতি ছাত্রদের সাথে আবেগঘন কিছু সময় কাটান সাহিদুজ্জামান টরিক। এসময় অশ্রুসিক্ত নয়নে মোনাজাত পরিচালনা করতেও দেখা যায় তাকে। আলহাজ্ব সাহিদুজ্জামান টরিক মাদ্রাসাটির পরিচালকের দায়িত্বও পালন করছেন।
জানা যায়, বিশিষ্ট্য ব্যবসায়ী আলহাজ্ব সাহিদুজ্জামান টরিক চুয়াডাঙ্গা আসলেই ভালোবাসার টানে সবার আগে ছুটে যান আলমডাঙ্গা উপজেলার পাঁচকমলাপুর গ্রামের হাজী শামসুজ্জোহা জামি'আ আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসায়। সেখানে নামাজ শেষে পিতা-মাতার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে দুই হাত তুলে অশ্রুসিক্ত নয়নে আল্লাহ’র কাছে মোনাজাত করেই যেন তিনি আত্মতৃপ্তি পান। বিদেশে থাকলেও তার মন পড়ে থাকে এ মাদ্রাসায়। চুয়াডাঙ্গায় আসলেই তিনি মাদ্রাসার কোমলমতি ছাত্রদের সাথে খাবারেও অংশ নেন।
মঙ্গলবার আলমডাঙ্গা উপজেলার পাঁচকমলাপুর গ্রামের হাজী শামসুজ্জোহা জামি'আ আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসায় ছাত্রদের সাথে আলহাজ্ব সাহিদুজ্জামান টরিক এবং তার পরিবারের সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীরা মধ্যাহ্নভোজ করেন। এসময় আলহাজ্ব সাহিদুজ্জামান টরিকের সাথে তার ছোট ভাই ও চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ, মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মুস্তাফিজুর রহমান শামীম, দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন, চুয়াডাঙ্গা জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড. মারুফ সরোয়ার বাবু, মাদ্রাসার মুহতামিম ও শাইখুল হাদিস আল্লামা আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব সাহিদুজ্জামান টরিক, আরিফুজ্জামান আরিফ ও চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফের পিতা মরহুম শামসুজ্জোহা বিশ্বাস একটি সুন্দর দ্বীনি-শিক্ষার ভাবনা নিয়ে ২০০১ সালে মাত্র ১৩ জন ছাত্র ও একজন শিক্ষক নিয়ে একটি চালা-ঘরে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের পাঁচকমলাপুর গ্রামে একটি দারুল উলুম কওমিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১০ সালে হাজি শামসুজ্জোহা বিশ্বাসের মৃত্যুর পর এই মাদ্রাসাটির পরিচালকের দায়িত্ব নেন তাঁর পুত্র চুয়াডাঙ্গার কৃতী সন্তান ও দানবীর হিসেবে খ্যাত আলহাজ্ব সাহিদুজ্জামান টরিক। একজন সুযোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে পিতার সুস্বপ্নকে আন্তরিকতা, ভালোবাসা, মেধা ও শ্রম দিয়ে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। মাদ্রাসাটি পরিচালনার জন্য সাহিদুজ্জামান টরিক চুয়াডাঙ্গায় তিন তারকা মানের হোটেল সাহিদ প্যালেস অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টার নির্মাণ করেছেন। সেখানে থেকে আয়কৃত সম্পূর্ণ অর্থ এ মাদ্রাসা কার্যক্রমে ব্যয় করা হয়। ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মাদ্রাসাটিতে ছাত্রদের জন্য লিল্লাহ বোর্ডিং-এর ব্যবস্থা করা হয়। যেখানে তিন বেলা মাদ্রাসার সকল ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে বিনামূল্যে খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা ও খুলনা বিভাগে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জনসহ পাঁচকমলাপুর দারুল উলুম হাফেজিয়া কওমিয়া মাদ্রাসাটি দিন দিন আরও অগ্রগতির দিকে যাচ্ছে। প্রতি বছরই মেধাবী শিক্ষার্থীরা উপহার দিচ্ছে নানা স্বীকৃতি। এছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় মাদ্রাসাটির সাফল্য বলার মতো। একের পর এক স্বীকৃতি ও শিক্ষার্থীদের উত্তম ফলাফল একটি সুন্দর দ্বীনি-শিক্ষার অভূতপূর্ব সাফল্যে ঘেরা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে মাদ্রাসাটিকে। মাদ্রাসাটিতে ইসলামি জ্ঞানচর্চার পরিবেশকে সুন্দর ও উন্নত করতে দারুণ ইন্টিরিয়র ও মনোরম পরিবেশে একটি পাঠাগার স্থাপন করেছেন সাহিদুজ্জামান টরিক।
