ছবির ক্যাপশন:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার বাসিন্দারা দিন-রাত মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখলেও রক্ষা মিলছে না। বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান- সব জায়গাতেই বাড়ছে মশার উপদ্রব। পৌরসভার উন্মুক্ত ড্রেনে জমে থাকা ময়লা ও আবর্জনাপূর্ণ পানিই মশার বংশবিস্তার বাড়াচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌর এলাকার হাসপাতাল চত্বর, হেলাই, নিশ্চিন্তপুর, মাস্টারপাড়া, বলিদাপাড়া, খয়েরতলা, কাশিপুর, রেলস্টেশন, আড়পাড়া, শিবনগর, চাচড়া- প্রায় সব এলাকাতেই মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার নিয়েছে। স্থানীয় সরকারি হাসপাতালের তথ্যমতে, গত জুলাই মাসে ১৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। চলতি মাসেও ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে। চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
পৌরবাসীদের অভিযোগ, নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করলেও তারা মশা নিধনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ পাচ্ছেন না। তিনটি ফগার মেশিন থাকলেও এর মধ্যে দুইটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো পড়ে আছে। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘মশার কারণে আমাদের ঘরে থাকা দায়। আমার ডেঙ্গু হয়েছিল। এখনো মশার জ্বালায় শান্তি নেই। পৌরসভা ড্রেন পরিষ্কার করলে হয়তো কিছুটা সমাধান হতো।’ অন্য বাসিন্দা উজ্জ্বল হোসেন বলেন, ‘দিন-রাত যেখানেই যাই মশার যন্ত্রণা। পৌর কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই। এভাবে চলতে থাকলে আরও অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়বেন।
কালীগঞ্জ পৌর প্রশাসক দেদারুল ইসলাম বলেন, শিগগিরই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হবে এবং মশা নিধনের কাজও জোরদার করা হবে। তবে তিনি দাবি করেন, পৌরসভার ফগার মেশিনগুলো সচল রয়েছে।
