ছবির ক্যাপশন:
দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানির কৃষি খামারগুলোতে আখ উৎপাদনের পাশাপাশি অলস পড়ে থাকা জমি কাজে লাগিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে খামার এলাকায় সারা বছর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় শ্রমিকদের জন্য। সরেজমিনে দর্শনা কেরুর ডিহি কৃষি খামারে দেখা যায়, আখের জমির পাশাপাশি মৌসুমি ফসলের চাষ করে খামারটি লাভবান হচ্ছে।
খামার ইনচার্জ সুমন কুমার সাহা জানান, মোট ৩ হাজার ৫৫ একর জমির মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৩৫০ একর জমিতে নিয়মিত আখ চাষ করা হয়। জমির একাংশ আখের জন্য বরাদ্দ রাখলেও প্রতিবছর প্রায় ৬ শ একর অলস জমি ফেলে রাখা হয় না। এই জমি স্থানীয় কৃষকদের স্বল্প মেয়াদে লিজ দেওয়ার পাশাপাশি বিএডিসি ও বিনার সহযোগিতায় নানা ফসল চাষ করা হয়।
গত কয়েক বছরে লোকসান কাটিয়ে খামারটি লাভের মুখ দেখছে। চলতি ২০২৫-২৬ মাড়াই মৌসুমে খামারে ১ হাজার ৫১৬ একর জমিতে আখ রয়েছে। এর বাইরে অলস জমি কাজে লাগিয়ে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি এ বছর প্রায় ১ কোটি ৫২ লাখ টাকা আয় করেছে। এসব জমিতে মিষ্টি কুমড়া, মাসকলাই, আউশ ধান, পাটবীজ, আলু, মসুর, ধনিয়া, মুগডাল, তিল, হলুদসহ নানা ফসল চাষ হচ্ছে। এসব থেকে অতিরিক্ত এক কোটি টাকারও বেশি আয় হয়েছে।
ডিহি খামারের ইনচার্জ মো. এমদাদুল হক জানান, ৪১৮ একর জমির মধ্যে এ মৌসুমে ৩০৬ একর জমিতে আখ রয়েছে। বাকি জমির কিছু অংশ লিজ দেওয়া হয়েছে কৃষকদের কাছে। আর কিছু জমিতে বিনা ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় আউশ ধান ও হলুদের পরীক্ষামূলক চাষ চলছে। পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়া ও আমন ধান চাষও করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ খাদ্য ও চিনি করপোরেশনের একমাত্র লাভজনক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হলো কেরু অ্যান্ড কোম্পানি। দীর্ঘ ৩২ বছরে এ বছর খামারটি সর্বোচ্চ লভ্যাংশ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। বছরে প্রায় ৫০ হাজার স্থানীয় শ্রমিক এখানে কাজ করেন। এর ফলে এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখছে প্রতিষ্ঠানটি।
