ছবির ক্যাপশন:
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মনসুর রহমান ছয়টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভুয়া বিল উত্তোলন করে বিপাকে পড়েছেন। কাজ না করেই টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। পরে লোক দেখানো কিছু কাজ শুরু করে আত্মসাৎকৃত টাকা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। ভাটপাড়া ডিসি ইকোপার্কের ছয়টি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা কাজ না করেই তুলে নিয়েছেন তিনি। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) সভাপতিদের খুশি করতে দেওয়া হয়েছে নামমাত্র ৫ হাজার টাকা।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের টিআর ও কাবিটা কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দ ছিল- শিশুপার্কে রাইড স্থাপন, ফেনসিং ও রংকরণে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, পার্কে ওয়াশরুম সংস্কার ও পিকনিক সেড মেরামতে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, অস্থায়ী দোকান সেড নির্মাণে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, শিশুপার্ক থেকে বধ্যভূমি পর্যন্ত এইচবিবি করণ ও মাটি ভরাটে ৮ লাখ টাকা, পার্কের প্রধান গেট নির্মাণ ও পাশে মাটি ভরাটে ৭ লাখ টাকা। প্রকল্প মেয়াদ শেষ হয়েছে ৩০ জুনের মধ্যে। অথচ মাঠপর্যায়ে কাজের কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। সামান্য কিছু কাজ হলেও সেখানে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হয়েছে।
সংবাদকর্মীরা সরেজমিনে গিয়ে দেখেন- প্রকল্পের অধিকাংশ কাজই হয়নি। পার্কে কাদা জমে আছে, ভাঙা টিউবওয়েল, নোংরা টয়লেট, রান্নার জায়গা ব্যবহার অনুপযোগী। বরাদ্দ থাকলেও কোনো উন্নয়ন হয়নি। স্থানীয়রা বলছেন, কাজ হলে পার্কের সৌন্দর্য্য ও পরিবেশ দুটোই উন্নত হতো।
পিআইসি সভাপতি ও ইউপি সদস্য জরিমন নেছা বলেন, ‘আমাকে কিছু কাগজপত্রে সই করতে বলা হয়। ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। পরে জানতে পারি আমি কয়েকটি প্রকল্পের সভাপতি হয়েছি যেগুলোর কাজই হয়নি।’ অন্য সভাপতি ফেরদৌসী আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের নাম ব্যবহার করে কাজ দেখানো হয়েছে। বিল উঠেছে, কিন্তু কাজ হয়নি। সামান্য কিছু কাজ করছে পিআইও অফিস। যদি টাকা আত্মসাতের পরিকল্পনা না থাকত তবে আগেই কাজ সম্পন্ন হতো।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জাহিদ আলম জানান, সব বিলই সংশ্লিষ্ট পিআইসির হিসাবেই দেওয়ার কথা। ব্যাংক ম্যানেজার বজলুল হুদা বলেন, বিল আসলে অ্যাকাউন্টস পে বা নগদায়নের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়। এদিকে পিআইও মনসুর রহমান সাংবাদিকদের দীর্ঘদিন এড়িয়ে যান। অবশেষে মুখোমুখি হলে তিনি শুধু বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না, আপনারা লিখে দিন।’
