ছবির ক্যাপশন:
খালেকুজ্জামান, কুড়ুলগাছি:
টানা বৃষ্টিতে মাঠে ঘাস নেই। আবার বৃষ্টির পানিতে ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার কারণে অনেক কৃষক আমান ধানও রোপণ করতে পারেনি। এতে ঘাস ও বিচালির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এ অবস্থায় দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি অঞ্চলের খামারিরা বর্তমানে চরম সংকটে পড়েছেন গবাদি পশুর খাদ্য নিয়ে। এতে অনেকে গরু পালনের আগ্রহ হারাচ্ছেন খামারিরা। জানা গেছে, বর্তমানে বাজারে ১ পণ বিচালি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়, যেখানে কয়েক মাস আগেও এর দাম ছিল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। ঘাসের দামও দ্বিগুণ বেড়েছে। পাশাপাশি দানাদার খাদ্য ও ভুসির দাম বাড়ায় খামারিদের ব্যয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
স্থানীয় গরু খামারি ইয়ানবী স্বর্ণকার বলেন, প্রতিদিন গরুর খাবার কিনতে গিয়ে এখন মাথায় হাত। আগে যেখানে ৫টি গরুর খরচ মেটানো যেত, এখন ৩টি গরু পালতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে অনেক খামারি গরু পালনের পরিকল্পনা বাতিল করছেন। তারা মনে করছেন, দাম নিয়ন্ত্রণে না এলে এবং কোনো সহায়তা না পেলে ভবিষ্যতে গবাদি পশু পালন করে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
চাষিদের দাবি, সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া এবং পশুখাদ্য আমদানির ব্যবস্থা করা হলে এই সংকট কিছুটা হলেও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। গরু পালন কুড়ুলগাছি অঞ্চলের বহু কৃষকের অন্যতম আয়ের উৎস হলেও খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এই খাতকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিলীমা আক্তার হ্যাপী বলেন, বর্তমানে বিচালী, ঘাস ও দানা খাবারের দাম এত বেশি যে কিনে খাওয়ালে লাভের মুখ দেখা যাবে না। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিদের নিজেদের বিচালির জন্য ধান চাষ করতে হবে এবং ঘাস উৎপাদন করতে হবে।
