ছবির ক্যাপশন:
রাজনৈতিক কর্মসূচি চলছিল পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী। চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ গতকাল শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার নবগঠিত মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের গাইদঘাট এলাকায় গণসংযোগে অংশ নেন। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে তিনি স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ঘরে জনতার সঙ্গে কুশল বিনিময় করছিলেন। মানুষকে কাছে টানার এক আন্তরিক প্রয়াসে ভর করেই এগোচ্ছিল পুরো কর্মসূচি। কিন্তু হঠাৎই মোবাইল ফোনে ভেসে আসে এক হৃদয়বিদারক সংবাদ। চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, দলের এক নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক, প্রবীণ রাজনীতিবিদ মজিবুল হক মালিক মজু আর নেই। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যান শরীফুজ্জামান শরীফ। কথা বন্ধ হয়ে যায়। রাজনৈতিক প্রচারণার ব্যস্ততা মুহূর্তে ম্লান হয়ে যায় ঘন শোকের ছায়ায়। তিনি আর এক মুহূর্তও কর্মসূচি চালিয়ে যেতে পারেননি। কর্মসূচি স্থগিত করে দ্রুত রওনা হন ‘মজু ভাইয়ের’ বাড়ির উদ্দেশে। চুয়াডাঙ্গা শহরের পুরাতন ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত মজিবুল হক মালিকের বাসভবনে উপস্থিত হয়ে শরীফুজ্জামান শরীফ তাঁর দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধার মরদেহের পাশে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। শোকাহত পরিবারের সদস্যদের বুকে টেনে নিয়ে সমবেদনা জানান। ব্যক্তিগতভাবে তিনি বলেন, ‘মজু ভাই শুধু দলের জন্য নয়, আমাদের সবার জন্য এক আশ্রয় ছিলেন। তাঁর এই হঠাৎ চলে যাওয়া আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।’
প্রবীণ নেতার মৃত্যুর পর তাঁর জানাজায়ও শরিক হন শরীফুজ্জামান শরীফ এবং দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মরহুমকে শেষ বিদায় জানান। এই দৃশ্য চুয়াডাঙ্গার রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি ব্যতিক্রমী মানবিকতার বার্তা পৌঁছে দেয়। যেখানে দলীয় কর্মসূচি, প্রচারণা কিংবা পদ-মর্যাদা নয়, মানুষের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং সহমর্মিতাই হয়ে ওঠে বড় পরিচয়।
