ঝিনাইদহ পৌর এলাকায় অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, মাস্টার ড্রেন নেই

দীর্ঘমেয়াদে পানিবন্দি মানুষ, জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত জনজীবন

আপলোড তারিখঃ 2025-08-08 ইং
ঝিনাইদহ পৌর এলাকায় অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, মাস্টার ড্রেন নেই ছবির ক্যাপশন:

ঝিনাইদহ পৌরসভার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতায় নাগরিকেরা ক্ষোভে ফুঁসছে। জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। মাসের পর মাস রাস্তায় ও পাড়ার মধ্যে পানি জমে থাকায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। মারাত্মক জলাবদ্ধতায় জীবনযাত্রায় ছন্দপতন ঘটছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভার ২৯টি পাড়া-মহল্লার বেশির ভাগ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ড্রেনগুলো অকেজো থাকায় পানি প্রবাহ নেই। ফলে মাসের পর মাস পানিতে ডুবে থাকছে রাস্তাঘাট। জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিন চলমান থাকলেও ঝিনাইদহ পৌরসভার দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না।
জানা গেছে, ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ঝিনাইদহ পৌরসভায় স্থায়ী একটি মাস্টার ড্রেন নির্মাণ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। যুগে যুগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে চেয়ারম্যান ও মেয়র নির্বাচিত হলেও প্রকৌশল বিভাগের সহায়তায় তারা অপরিকল্পিত ড্রেন তৈরি করে কোটি কোটি টাকা পকেটস্থ করেছেন। ফলে পানি ড্রেনেজ হওয়ার পরিবর্তে দেশি-বিদেশি কয়েক’শ কোটি টাকা ড্রেন-আউট হয়ে গেছে।


শহর ঘুরে দেখা গেছে, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে পাগলাকানাই মোড় পর্যন্ত সড়ক বিভাগ একটি ড্রেন তৈরি করলেও তাতে সংযোগ না থাকায় কোনো পানি প্রবাহ নেই। পাগলাকানাই থেকে ভাসানী সড়ক, জিয়া সড়ক, উপশহরপাড়া, মুন্সি মার্কেট থেকে শেরেবাংলা সড়কের ড্রেনগুলোতে পানি প্রবাহ নেই। ওই সব পাড়ার মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে।


অন্যদিকে, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বৃহত্তর ব্যাপারীপাড়া, গোরস্থান সড়ক, আদর্শপাড়া, মডার্ন মোড়, চাকলাপাড়া, কালিকাপুর, কাঁঠালবাগান, সায়াদাতিয়া সড়ক, কাঞ্চননগর, থানাপাড়া, কলাবাগান, মদনমোহনপাড়া, হামদহ মোল্লাপাড়া, গ্রিড স্টেশন পাড়া, ভুটিয়ারগাতি, পবহাটি, কোরাপাড়া ব্যাকা ব্রিজ, কলাবাগান, বাজারপাড়া, নতুন হাটখোলা, বাজারপাড়া ও কোর্টপাড়া থেকে পানি বের হতে পারছে না। এসব পাড়ায় বসবাসরত মানুষ সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছে।


উপ-শহরপাড়ার শিক্ষক নাছিমা বেগম জানান, দুই মাসের বেশি সময় ধরে তার বাড়ির সামনে পানি জমে আছে। তার সন্তানরা এখন অন্যত্র বাসাভাড়া নিয়ে চলে যেতে চাইছে। একই পাড়ার বৃষ্টি খাতুন জানান, জলাবদ্ধতার কারণে সাপ, ব্যাঙ, কেঁচোসহ পোকামাকড়ের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ঘরে বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে।


পাগলাকানাই সায়াদাতিয়া সড়কের বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম মামুন জানান, তাদের গোটা পাড়া পানির নিচে। জলাবদ্ধতার কারণে বাড়ির মধ্যেও পানি প্রবেশ করেছে। ছোট ছোট সন্তান নিয়ে বসবাস করা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। ঝিনাইদহ চেম্বারের সাবেক সভাপতি মীর নাসির উদ্দীন জানান, পৌর এলাকার ড্রেনগুলো অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। শহরের পাশে নদী থাকতেও একটি মাস্টার ড্রেন তৈরি করে নদীতে দেওয়া যায়নি। এটা বড়ই দুর্ভাগ্য।


পৌর এলাকার কৃষক মহিউদ্দীন জানান, শহরের ভিতর ও বাইরে দিয়ে প্রবাহিত ছোট ছোট নালা ও খালগুলো ভরাট হওয়ায় পানি বের হতে পারছে না। ফলে তারা এবার জমিতে ধান রোপণ করলেও তা প্রায় এক মাস ধরে পানির নিচে রয়েছে। তিনি বলেন, শহরের পশ্চিম এলাকার পানি কোরাপাড়া-কাঞ্চনপুর হয়ে হামদহ এলাকায় দিয়ে প্রবাহিত হতো। কিন্তু এখন সেই খালের মধ্যে বড় বড় ভবন তৈরি হয়েছে।
ব্যবসায়ী সুলতান শেখ অভিযোগ করেন, ঝিনাইদহ শহরের নদী, খাল, বিল ও নালা দখলের প্রধান কারিগর হচ্ছে ঝিনাইদহ পৌরসভার নকশা বিভাগ। এই বিভাগের অসাধু কর্মচারীরা লাখ লাখ টাকা খেয়ে সহজেই নদী, খাল, বিল ও নালার মধ্যে বাড়ি তৈরির অনুমোদন দিয়ে থাকে। ফলে ১২ বছরের মধ্যেই খালগুলো মানচিত্র থেকে উধাও হয়ে গেছে।


জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কামাল উদ্দীন বলেন, ইতিমধ্যে নাগরিকদের দুর্ভোগ লাঘবে পাড়া-পাড়ায় আমরা পানি নিষ্কাশনের কাজ করছি। তাছাড়া পরিকল্পিতভাবে কয়েকটি ড্রেন নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে একটি প্রকল্পের টাকা পাওয়া গেছে, টেন্ডারও হয়েছে। তিনি বলেন, দুইটি ড্রেন নির্মিত হলে অনেকাংশে জলাবদ্ধতা কমে যাবে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)