ছবির ক্যাপশন:
রক্তমাখা শরীর। তীব্র ব্যথায় কাতরাচ্ছে সবাই। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কারো মাথা দিয়ে রক্ত ঝরছে। কেউ ব্যান্ডেজ নিয়ে বসে আছে। এমন সময় একদল মানুষ এসে আহত মানুষগুলোর ওপর হামলে পড়লো। শুরু হলো ধস্তাধস্তি ও আহত রোগীদের মারধর। জরুরি বিভাগের মধ্যে এমন দৃশ্য দেখে হাসপাতালে আসা সেবাগ্রহীতা সবাই হতবাক। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা সদরের আড়াইশ বেড হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে। এতে হামলায় আহত রোগীরা আরও আহত হয়ে পড়ে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর হরিপুর কবি ফজের আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হন জামায়াত সমর্থিত জহুরুল ইসলাম। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মতবিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার স্কুল কমিটির সভা চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে জামায়াতের ৯ জন ও বিএনপির ৬ নেতা-কর্মী আহত হন।
বিএনপির আহতরা হলেন- কানুহরপুর গ্রামের ইমাদুর রহমান, একই গ্রামের মাসুম, গোলাম মোস্তফা, সুমন, রেহানা খাতুন ও মহারাজপুর গ্রামের রহমতুল্লাহ। জামায়াতের আহতরা হলেন- জহুরুল ইসলাম, হুসাইন, মুজাব আলী, হাফিজুর রহমান, রুপচাঁদ আলী, ফয়জুল্লাহ, সলেমান মন্ডল, তোতা মিয়া ও সফর আলী। বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত আহতরা ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এদিকে, দুপুর ১২টার দিকে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দুই দলের আহত নেতা-কর্মীরা আরেক দফায় মারামারিতে লিপ্ত হয়। এসময় সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। হামলার বিষয়ে বিএনপি ও জামায়াত পরস্পরকে দোষারোপ করছেন।
ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন সংঘর্ষের খবর নিশ্চিত করে জানান, চার মাস আগে স্কুলের কমিটি করা নিয়ে মারামারির সূত্রপাত হয়। একপক্ষ কমিটি মানতে নারাজ। তারাই বৃহস্পতিবার হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। ওসি আরও জানান, এখনো থানায় কোনো পক্ষ মামলা করেনি। তবে দুই পক্ষ মামলা দিলে তা রেকর্ড করা হবে।
