পলাতক ও প্রভাবশালী বিসিআইসি সার ডিলারদের বিরুদ্ধে তদন্ত

সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন

আপলোড তারিখঃ 2025-07-31 ইং
পলাতক ও প্রভাবশালী বিসিআইসি সার ডিলারদের বিরুদ্ধে তদন্ত ছবির ক্যাপশন:

দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এ তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ঝিনাইদহ জেলার ছয় উপজেলায় বিসিআইসি সার ডিলারদের তথ্য যাচাই-বাছাই শুরু করেছে কৃষি বিভাগ। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যাচাই শেষে পলাতক ও প্রভাবশালী চক্রের দখলে থাকা ডিলারশিপ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, জেলায় মোট ৬৭টি বিসিআইসি সার ডিলার রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৫০টি ডিলারশিপ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাবেক দুই এমপি ও দলীয় নেতা-কর্মীদের দখলে। মামলায় অভিযুক্ত হয়ে অন্তত ৮ থেকে ১০ জন ডিলার বর্তমানে পলাতক।


তথ্যমতে, কোটচাঁদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহজাহান এখনও পলাতক। অথচ তার নামে সক্রিয় সার ডিলারশিপ রয়েছে। কালীগঞ্জের ‘প্রগতি ট্রেডার্স’ নামে ডিলারশিপ নিয়ন্ত্রণ করেন মাহবুব রহমান মহাব্বত। অথচ মূল মালিক সাবেক এমপি আনারুল হকের স্ত্রী ইয়াসমিন ফেরদৌস ঢাকায় বসবাস করেন এবং সরাসরি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। জেলা সার ডিলার সমিতির সভাপতি হাজী জাহাঙ্গীর হোসেন নিজের পাশাপাশি তার স্ত্রী কাজী শিউলী সুলতানা ও ভগ্নিপতি আশরাফুল ইসলাম টিটোর নামে তিনটি ডিলার লাইসেন্স চালু রেখেছেন।


নিয়ম ভঙ্গ করে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে ডিলারশিপের অভিযোগ উঠেছে কালীগঞ্জ উপজেলায়ও। সেখানকার সোহরাব ও তার ভাই শহিদুলের নামে রয়েছে দুটি ডিলারশিপ। একইভাবে তাদের স্ত্রী সাবিতা নাসরিন ও পারভিন ইসলামের নামে আরও দুটি ডিলারশিপ রয়েছে। শৈলকূপার বগুড়া ইউনিয়নে যুবলীগ নেতা সফিকুল ইসলাম শিমুল পলাতক অবস্থায়ও সার ডিলারশিপ নিয়ন্ত্রণ করছেন। মামলার কারণে সাবেক এমপি নায়েব আলী জোয়ারদারও পলাতক থাকায় তার ডিলারশিপে সংকট দেখা দিয়েছে, যা কৃষি মৌসুমে সারের ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।


ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটি ইউনিয়নের ডিলার মাহমুদুর রহমান রাসেল বর্তমানে আমেরিকায় অবস্থান করছেন। তার পিতা হরিণাকুণ্ডু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং একাধিক মামলার আসামি হিসেবে পলাতক। ফলে মাহমুদের ডিলারশিপ পরিচালনা করছেন অন্য ব্যক্তি, যা নীতিমালার লঙ্ঘন। হরিণাকুণ্ডু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেনের মৃত্যুর পর তার ডিলারশিপ চালাচ্ছেন তৃতীয় পক্ষ। যদিও সেখানে নিয়মিত সার বিক্রি চলছে, তবে এটি কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা রয়েছে।


জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১-৯৬ সালে জেলায় বিসিআইসি সার ডিলার ছিল মাত্র ১৩টি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০০০ সাল পর্যন্ত ৫৪টি নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কালীগঞ্জে ২টি এবং শৈলকূপায় ৩টি বাড়তি ডিলারশিপ দেওয়া হয়।


উপজেলা ওয়ারি বিশ্লেষণে দেখা যায়, সদর উপজেলায় ১৮টির মধ্যে ১২টি, কালীগঞ্জে ১৪টির মধ্যে ১৩টি, কোটচাঁদপুরে ৬টির মধ্যে ৪টি, মহেশপুরে ১৩টির মধ্যে ৮টি, শৈলকূপায় ১৫টির মধ্যে ১০টি এবং হরিণাকুণ্ডুতে ১০টির মধ্যে ৬টি ডিলারশিপ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দখলে।


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ষষ্ঠি চন্দ্র রায় বলেন, ‘কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে নির্দিষ্ট ছকে ডিলারদের তথ্য চাওয়া হয়েছে। আমরা সেই ছক পূরণ করে পাঠাচ্ছি। যারা মামলার আসামি, পলাতক কিংবা নিজেরা ব্যবসা পরিচালনা করছেন না-এমন তথ্য উল্লেখ করে দেওয়া হচ্ছে।’ উল্লেখ্য, গত ৭ নভেম্বর ‘ঝিনাইদহে ৬৭টি সার ডিলারের মধ্যে ৫০টিই আ’লীগের কব্জায়’ শিরোনামে দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকায় সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি আলোচনায় আসে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)