ছবির ক্যাপশন:
আলমডাঙ্গার বেলগাছী বাগানপাড়ার আলোচিত ও বিতর্কিত ব্যক্তি কালাম ওরফে ‘বোমা কালাম’ (৩৫) আর নেই। গত শনিবার গভীর রাতে নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে তিনি মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন। তবে মৃত্যুর পরেও থামেনি বিতর্ক ও জনরোষ। এলাকাবাসীর তীব্র আপত্তির মুখে তাকে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত সামাজিক চাপের মুখে তার পরিবার বাধ্য হয়ে নিজ বাড়ির উঠানেই দাফনের ব্যবস্থা করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবদ্দশায় কালাম চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে থানায় ১৭টিরও বেশি মামলা রয়েছে। এমনকি নিজের মাকেও বোমা মেরে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও অসামাজিক ও ধর্মবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন- কালাম ধর্মীয় মূল্যবোধকে তাচ্ছিল্য করতেন, মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন, গরিব-দুঃখীদের নিয়ে উপহাস করতেন এবং দান-খয়রাতে বিরূপ মনোভাব পোষণ করতেন। নাম না প্রকাশের শর্তে এক প্রতিবেশী বলেন, ‘মানুষ না খেয়ে মরত, আর সে কুকুরকে খাওয়াতো হাঁস-মুরগির রান। মানুষ মরলেও ক্লাবে গান বাজাতো। এমনকি কবরস্থানে মৃত ব্যক্তিকেও মাটি দিতে দিত না। আজ সে নিজেই সেই বাস্তবতার শিকার হলো।’
মৃত্যুর পর তার পরিবার মরদেহ দাফনের জন্য গ্রামের কবরস্থানে নেওয়ার চেষ্টা করলে মুসল্লিরা একজোট হয়ে বাধা দেন। তারা স্পষ্ট জানান- যিনি জীবদ্দশায় ধর্ম ও মানবতার শত্রু ছিলেন, পবিত্র কবরস্থানের মাটি তার জন্য নয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা হলেও ব্যর্থ হয় পরিবার। শেষমেশ বাড়ির উঠানেই দাফনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
মসজিদ কমিটির একজন প্রবীণ সদস্য বলেন, ‘পাপ করলে তার শাস্তি এ দুনিয়াতেই শুরু হয়। জীবদ্দশায় যেসব কাজ করেছে, তার ফল সে মৃত্যুর পরও ভোগ করছে। কবরস্থানের মাটিও আজ তাকে গ্রহণ করতে চায়নি।’ তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজে মানবিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। কেউ কেউ বলছেন- মৃত ব্যক্তির প্রতি বিদ্বেষ নয়, বরং দোয়া ও ক্ষমার দৃষ্টিভঙ্গিই হওয়া উচিত।
