ছবির ক্যাপশন:
দামুড়হুদা উপজেলার হুদাপাড়া সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক মানসিক ভারসাম্যহীন বাংলাদেশি বৃদ্ধ। গতকাল রোববার দুপুর ১২টার দিকে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত আলী আকবর (৬০) দামুড়হুদার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের মাঝেরপাড়ার মৃত নুর ইসলামের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আলী আকবর মানসিক ভারসাম্যহীন। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে চলে যান। গত শনিবার ভোরে হুদাপাড়া সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় বিএসএফ সদস্যরা তাকে পিটিয়ে জখম করে। পরে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয় এক যুবক। প্রাথমিকভাবে একটি ফার্মেসিতে তাকে চিকিৎসা দেয়া হলেও জখমগুলো গুরুতর হওয়ায় গতকাল দুপুরে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলী আকবর বলেন, ‘আমি সীমান্ত পার হইনি। ভোরে হাঁটার সময় এক জায়গায় বসে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিচ্ছিলাম। এসময় বিএসএফের তিনজন সদস্য হঠাৎ সেখানে এসে আমাকে রাইফেলের ছুরি দিয়ে আঘাত করতে শুরু করে। আমি তাদেরকে বলেছি, আমি ভালো মানুষ, সীমান্ত পার হইনি, কিন্তু তারা আমার কোনো কথাই শোনেনি। একপর্যায়ে আমি মাটিতে পড়ে গেলে তারা সেখান থেকে চলে যায়।’
আকবারের স্ত্রী ময়না খাতুন জানান, ‘শুক্রবার ভোরে রাতে তার স্বামী বাড়ি বের হয়েছিলো, ভোর হয়ে এলেও না ফেরায় খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি। পরদিন সকালে এক যুবক আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে। এসময় দেখি তার হাত, পা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার পর তাকে সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করেছি। আমার স্বামী মানসিক প্রতিবন্ধি, সে সহজ সরল মানুষ। সীমান্তে তার কোনো কাজ নেই।’
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইসরাত জেরিন জেসি বলেন, ‘আহত বৃদ্ধকে হাসপাতালে আনা হলে দেখা যায়, তার শরীরে পূর্বে দেওয়া একাধিক সেলাই রয়েছে। আমরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। তার অবস্থা শঙ্কামুক্ত।’
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে জেনেছি, ভুক্তভোগী মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন। তবে ঠিক কোন সীমান্ত পিলার এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জানি না ওই বৃদ্ধর সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে, তবে কাউকে এভাবে মারধর করা উচিত নয়। অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হওয়া দরকার।’
