ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গার ‘গাইদঘাট রেলপাড়া বাইতুল মোকাদ্দাস জামে মসজিদ’-এর নামফলক মুছে দেওয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল শেখ কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল করিমকে ২ নম্বর আসামি করে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫/৭ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযুক্ত অন্য দুজনের মধ্যে ১ নম্বর আসামি মিলন হোসেন (৪০) ও ৩ নম্বর আসামি আরিফ হোসেন (৩৮)। মসজিদের নাম নিয়েও বিরোধ, এমন ঘটনার পর থেকে এ নিয়ে গাইদঘাটে নানা আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় মুসল্লিরা সদর থানায় হাজির হয়ে এর সুষ্ঠু সমাধানের দাবিও জানান। পরে রাতে উভয়পক্ষের সঙ্গে থানায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসময় অভিযুক্তরা তাদের ওপর বানা অভিযোগ স্বীকার করে এবং এমন কর্মকাণ্ডে পুনরায় না জড়ানোর শর্তে সুরাহা হয়।
জানা গেছে, ‘গাইদঘাট রেলপাড়া বাইতুল মোকাদ্দাস জামে মসজিদ’টিতে গাইদঘাট রেলপাড়া, মাঝেরপাড়া ও স্টেশনপাড়ার মুসল্লিরা নামাজ আদায় করে। মসজিদের দলিল ও কাগজেপত্রে বিভিন্ন সময় তিনপাড়ার নামই এসেছে। যা নিয়ে স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে পূর্ব থেকে বিরোধ ছিল। সর্বশেষ জেলা পরিষদ থেকে মসজিদটিতে ২ লাখ টাকার একটি অনুদান প্রদানের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যেখানে ‘মসজিদের নাম উল্লেখ রয়েছে ‘গাইদঘাট মাঝেরপাড়া বাইতুল মোকাদ্দাস জামে মসজিদ’। মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনুদানের টাকা নেওয়ার সময় নাম মাঝেরপাড়া লেখা হবে এবং আলোচনার মাধ্যমে নাম নিয়ে সুষ্ঠু সমাধান করা হবে, যেন তিন পাড়ার মুসল্লিরাই সন্তুষ্ট থাকেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল করিমের কথামতো স্থানীয় মুসল্লি মিলন হোসেন ও আরিফ হোসেনসহ ৫ থেকে ৬ জন মসজিদের সামনে উপস্থিত হয়। এসময় তারা ‘গাইদঘাট রেলপাড়া বাইতুল মোকাদ্দাস জামে মসজিদ’ এর নামফলক থেকে ‘রেলপাড়া’ অংশটি ভেঙে মুছে দেয়। রাত ১১টার দিকে খবর পেয়ে সমজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এবং মসজিদ কমিটির অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার পর গতকাল দুপুরে থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল শেখ বলেন, ‘১৯৮৮ সালের অনেক আগে প্রতিষ্ঠিত মসজিদটিতে রেলপাড়া, মাঝেরপাড়া ও স্টেশনপাড়ার মুসল্লিরা নামাজ আদায় করে আসছেন। মসজিদের প্রধান ফটকে শুরু থেকেই রেলপাড়া বলে লেখা রয়েছে। যদিও বিভিন্ন সময়ে মসজিদ কমিটির কাগজপত্রে মাঝেরপাড়া ও স্টেশনপাড়ার বলেও উল্লেখ রয়েছে। আমরা স্থানীয় মুসল্লিসহ কমিটির সকল সদস্যদের সমন্বয়ে একটি সুষ্ঠু সমাধানের জন্য আলোচনাও করেছি। এরইমধ্যে শুক্রবার রাতের আঁধারে কাউকে কিছু না জানিয়ে কমিটির সাধারণ সম্পাদক একক সিদ্ধান্তে ৫/৬ জনকে সঙ্গে নিয়ে মসজিদের নামফলক থেকে ‘রেলপাড়া’ শব্দটি ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে। সম্পূর্ণ নামটি ভেঙে না ফেলতে পারলেও ‘রেলপাড়া’ অংশটি মুছে দিয়েছে। ধর্মীয় মূল্যবোধের আমরা কোনো প্রকার বিরোধ চাই না, তাই সুষ্ঠু সমাধানের জন্য থানায় অভিযোগ করেছি।’
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ‘তিন পাড়ার মুসল্লিদের মধ্যে মসজিদের নাম নিয়ে মতভেদ আছে। এরই জেরে মসজিদের নামের ‘রেলপাড়া’ অংশটি মুছে দেওয়া হয়েছে। থানায় মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ জানিয়েছেন। আলোচনার মাধ্যমে এর একটি সুষ্ঠু সমাধানের জন্য স্থানীয় ময়মুরুব্বিসহ দুই পক্ষকেই থানায় ডাকা হয়। রাত সাড়ে আটটায় বৈঠকে অভিযুক্তরা তাদের ভুল স্বীকার করেন এবং পরবর্তীতে এমন কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না মর্মে অঙ্গীকার করলে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান সম্পন্ন হয়।’
