ছবির ক্যাপশন:
এবার কি কমে যাবে চাঁদমারী মাঠের জায়গা? কোর্টপাড়ার বাসিন্দা এবং ভিক্টোরিয়া জুবিলি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের দাবি কি এবার থমকে যাবে? শেষ মেষ কি স্বার্থন্বেষী মহল মাঠের অংশে রাস্তা পেতেই বসেছে? এমন প্রশ্ন উঠেছে গতকাল রোববারের জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভার পর থেকে।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার ভিক্টোরিয়া জুবিলি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ (চাঁদমারী মাঠ) রক্ষণে এর আগেও একাধিকবার কোর্টপাড়ার বাসিন্দারা ও প্রাক্তন এবং বর্তমান শিক্ষার্থীরা মাঠের উন্নয়ন ও জায়গা বাঁচাতে স্মারকলিপি প্রদানসহ মানববন্ধন করেছে। বিশেষ করে মাঠের পূর্ব পাশে রাস্তার জন্য জায়গা না রেখেই বাড়ি নির্মাণ করেছেন কয়েকজন। তাদের দীর্ঘদিনের টার্গেট, মাঠের জমিতে রাস্তা করার। তবে কোর্টপাড়ার বাসিন্দারা ও প্রাক্তন এবং বর্তমান শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে বারবার ভিন্নমত জানিয়ে আসছে।
এদিকে, গতকাল রোববার জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী দেলওয়ার হোসেন জানান, চুয়াডাঙ্গা ভিক্টোরিয়া জুবিলি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে (চাঁদমারী মাঠ) ওয়াকওয়ে এবং মাটি ভরাটের জন্য ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে। এসময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘চাঁদমারী মাঠের পূর্ব পাশে আমরা একটি ওয়াকওয়ে করে দেব।’ তৎক্ষণাৎ উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মী এবং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি চাঁদমারী মাঠ নিয়ে কোর্টপাড়ার বাসিন্দাদের ও প্রাক্তন এবং বর্তমান শিক্ষার্থীদের দাবি উপস্থাপন করেন।
সভায় দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক ও আজকের পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মেহেরাব্বিন সানভী প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, ‘চাঁদমারী মাঠের পূর্ব দিকে যারা বাড়ি করেছেন, প্রাচীর দিয়েছেন, তবে রাস্তার জন্য জায়গা রাখেননি। পশ্চিম পাশে যে রাস্তাটি আছে, সেটির ওপারেও চাঁদমারী মাঠের জায়গা আছে। এখন আবার পূর্ব পাশে ওয়াকওয়ে হলে সেটি কি মাঠের জায়গায় করা হবে?’
উত্তরে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা জাস্ট একটি ওয়াকওয়ে করে দেব। ওখানে যাদের বাড়ি, তারা তো মাঠ দিয়েই বের হয়। আমার কথা হলো, ওরা না দিক, এতোটুকু তো আমাদের এনসিয়র করতে হবে। মাটি ভরাট ও চারিদিকে একটি প্রতিবদ্ধকতা তৈরি করা হবে, যাতে গরু-ছাগল মাঠে সরাসরি ঢুকতে না পারে।’ এসময় পুনরায় সাংবাদিক মেহেরাব্বিন সানভী মাঠ সম্পর্কে অবহিত করে জেলা প্রশাসকের নজরে এনে বলেন, ‘এর আগেও চাঁদমারী মাঠের পূর্ব দিকে রাস্তা করার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো। তবে এলাকাবাসী, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে সেটি সম্ভব হয়নি।’ তখন জেলা প্রশাসক বলেন, ‘তা না হলে মাঠটি প্রক্টেকটিভ হবে না।’
এসময় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি রাজিব হাসান কচি বলেন, ‘সীমানা প্রাচীর দিলে মাঠটি প্রক্টেকটিভ হবে।’ এসময় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চুয়াডাঙ্গার সাবেক মুখ্য সংগঠক সজিবুল ইসলাম জেলা প্রশাসকের কাছে প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, ‘এটি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সরকারি মাঠ। যেখানে নিয়মিত খেলাধুলা হয়। তার ওপর দিয়ে ব্যক্তি মালিকানাধীন বাড়িতে যাবার রাস্তা আপনি কীভাবে দিচ্ছেন?’ তখন জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমার মাঠ প্রটেকশনের জন্য এটি করা। আমি যদি বলি, পশ্চিম পাশের রাস্তাটা কেন করা হলো।’ তখন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চুয়াডাঙ্গার সাবেক মুখ্য সংগঠক সজিবুল ইসলাম বলেন, ‘স্যার আমাদের মনে হয়, চুয়াডাঙ্গা জেলাবাসীর কনসার্নের বাইরে গিয়ে জেলা প্রশাসনের নিজস্ব কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত হবে না।’
এসময় এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টদের দাবি তুলে ধরে আবারো সাংবাদিক মেহেরাব্বিন সানভী বলেন, ‘চাঁদমারী মাঠের ক্ষতি না করে কীভাবে মাঠটি বাঁচানো যায়, আমাদের সেদিকে নজর দিতে হবে। একটি সীমানা প্রাচীর এই সমস্যার সহজ সমাধান হতে পারে।’ এসময় জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী দেলওয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা এর আগেও ওয়াকওয়ে করার উদ্যোগ নিয়ে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের বাধায় কাজটি সম্পন্ন করতে পারিনি।’
চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি রাজিব হাসান কচি পুনরায় বলেন, ‘এমনিতেই মাঠটির তিনদিকে রাস্তা হয়ে মাঠটি সংকুচিত হয়ে এসেছে।’ তখন জেলা প্রশাসক প্রশ্ন করেন, ‘যখন এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়ে নাই, আপনারা সবাই গিয়ে ঝাপাইয়া পড়লেন না কেন?’ এদিকে, এ সভা থেকে ধীরে ধীরে চাঁদমারী মাঠের পূর্ব দিকে ওয়াকওয়ে করার বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ভিন্ন মত দেখা গেছে। কোর্টপাড়ার বাসিন্দা এবং ভিক্টোরিয়া জুবিলি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা মাঠের জায়গা বাঁচাতে পূর্বের ন্যায় পুনরায় আন্দোলন করার ঘোষণাও দিয়েছেন।
