ছবির ক্যাপশন:
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় গাংনী উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এর আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মনির হায়দার বলেন, ‘৭১ এবং ২৪-দু’টোই ছিল মুক্তির চেতনা। সব যুদ্ধকে ৭১ বা ৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের মতো ভাবা যাবে না। এখনকার যুদ্ধে প্রাণহানি কম হলেও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনেক বেশি। ২০২৪ সালের যুদ্ধের মধ্য দিয়ে একটি পক্ষ পরাজিত হয়েছে-সেই পক্ষটি ছিল মাফিয়া-ফ্যাসিস্ট। তারা জনগণের কাছে পরাজিত হয়েছে।’
মনির হায়দার আরও বলেন, ‘সেই সময়কার মাফিয়া-ফ্যাসিস্ট সরকার গোটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কব্জায় নিয়ে জনগণের ওপর লেলিয়ে দিয়েছিল। যারা গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল, কিংবা যারা পৃষ্ঠপোষকতা ও মদদ দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াই হলো প্রকৃত নিরপেক্ষতা। আগে আমরা যতটুকু অধিকার পেয়েছি, তা কেবল দয়া করে দেওয়া হয়েছে। একজন স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও আমার অধিকার কতটুকু হবে, সেটিও অন্য কেউ নির্ধারণ করতো। মানুষ তখন ছিল জিম্মিদশায়। এমন এক শাসকগোষ্ঠী আমাদের ওপর ছিল যারা শুধু অধিকার কেড়ে নেয়নি, বরং নির্যাতন-নিপীড়ন করেছে।’
মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ না হলে স্বাধীন ভূখণ্ড পেতাম না। মুক্তিযুদ্ধ ছিল পাকিস্তানিদের হাত থেকে মুক্তির যুদ্ধ। যা আমাদের দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্জন। কেউ চাইলে এটিকে খাটো করতে পারবে না। বৈদ্যনাথতলার ভবেরপাড়া থেকে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক যাত্রা।’
শেখ মুজিবুর রহমান প্রসঙ্গে মনির হায়দার বলেন, ‘মুক্তি সংগ্রামে শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। শেখ মুজিবুর রহমান কখনও মুজিবনগরে আসেননি। তার সঙ্গে মুজিবনগরের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই। তাহলে মুজিবনগরের নাম তার নামে কেন করা হলো? নামটি হতে পারতো মুক্তিনগর বা মুক্তিপুর।’
মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাজওয়ার অকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ এই সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি আমজাদ হোসেন, গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রেজাউল হক, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক, জামায়াত নেতা জিল্লুর রহমানসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
