গাংনীর চিৎলা পাটবীজ খামারে জেডি মোর্শেদুল ইসলামের একক আধিপত্য

সরকারি সম্পদ লুটপাট, টেন্ডার বাণিজ্য ও গাছ-ভবন বিক্রি

আপলোড তারিখঃ 2025-07-18 ইং
গাংনীর চিৎলা পাটবীজ খামারে জেডি মোর্শেদুল ইসলামের একক আধিপত্য ছবির ক্যাপশন:

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চিৎলা পাটবীজ খামার যেন পরিণত হয়েছে যুগ্ম পরিচালক (জেডি) মোর্শেদুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে’। সরকারি দায়িত্বে থেকেও তিনি খামারের বিভিন্ন সম্পদ ও কার্যক্রম একচ্ছত্রভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি গাছপালা, যানবাহন, অবকাঠামো, শ্রমিক ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে খামারের কৃষি-উৎপাদন, সবকিছুতেই রয়েছে তার ‘একক আধিপত্য’ এবং নানামুখী অনিয়ম।


স্থানীয় সূত্র জানায়, জেডি মোর্শেদুল নিয়মিত অফিস না করেও সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে নিজের শ্বশুরবাড়ি চুয়াডাঙ্গায় যাতায়াত করেন। খামারে আসেন ইচ্ছেমতো, দায়িত্বে কোনো নিয়ম-নীতি মানেন না। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের ঘনিষ্ঠদের দিয়ে টেন্ডারে অংশগ্রহণ করিয়ে দরপত্রের শর্ত ও দর পরিবর্তন করে প্রকৃত দরদাতাদের বঞ্চিত করেন।


খামারের ১৫০টি আমগাছের মধ্যে মাত্র ৮৯টি গাছ নিলামে তোলা হলেও বাকি গাছগুলোর বিষয়ে কোনো টেন্ডার হয়নি। প্রায় ২৫-৩০ হাজার টাকার কাঁঠাল মাত্র ৫ হাজার টাকায় লেবার সর্দারদের দেওয়া হয়। লিচু গাছের সংখ্যাও গোপন রাখা হয়েছে। এছাড়া ১৫-২০টি মূল্যবান গাছ গোপনে কেটে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। আরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে খামারের পুরনো ভবন বিক্রিকে ঘিরে।


জানা যায়, সর্বোচ্চ দরদাতা ৬৫ লাখ টাকা দাম দিলেও ভবনটি মাত্র ২৮ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন জেডি মোর্শেদুল। এর মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা পড়ে মাত্র ১৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। বাকি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। একইভাবে, মাটির নিচে থাকা প্রায় ২০০টি লোহার পাইপ কোনো প্রকার টেন্ডার ছাড়াই বিক্রি করে দেওয়া হয়।


সূত্র জানায়, একর প্রতি ২৪ জন শ্রমিক বরাদ্দ থাকলেও কাজ করানো হয় মাত্র ১৬ জন দিয়ে। বাকি ৮ জনের নামে ভুয়া বিল ও মাস্টাররোল তৈরি করে টাকা তোলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বাইরের জেলা থেকে এনে নাজিম নামে একজনকে অঘোষিত জেডি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সব ধরনের অনিয়ম তার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করেন মোর্শেদুল। শ্রমিক তালিকাও তৈরি হয় তার ইচ্ছেমতো।


স্থানীয় ঠিকাদার ও বিএনপি নেতা নুর ইসলাম বলেন, ‘আমি কয়েকটি টেন্ডারে অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু এখানে নিয়মিত দুর্নীতি চলে। সবচেয়ে বেশি দরদাতাকে বাদ দিয়ে জেডি নিজের মতো করে দর কমিয়ে নতুনভাবে টেন্ডার তৈরি করেন।’


ধানখোলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিউল রহমান ট্রমা বলেন, ‘এই জেডি নিজেকে শেখ হাসিনার ক্লাসমেট বলে পরিচয় দেন। আবার বলেন, তিনি গোপালগঞ্জের বাসিন্দা ও চুয়াডাঙ্গার ছেলুন জোয়ার্দ্দারের জামাই। তার কাছে নাকি আগেও পিস্তল ছিল, আমলায় চাকরি করার সময় তা ব্যবহার করতেন।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘চুয়াডাঙ্গায় নিজের গরুর খামারে চিৎলা খামারের ধানের বিচালি সরকারি গাড়িতে করে নিয়ে যান জেডি। এসবের কোনো টেন্ডার হয় না। কেউ কিছু বলতে সাহস করে না, কারণ শুনেছি হেড অফিসে ‘ঘুষের ভাগ’ পৌঁছায়।’


এই বিষয়ে জানতে চেয়ে জেডি মোর্শেদুল ইসলাম, পাটবীজ বিভাগের জিএম দেবদাস সাহা এবং বিএডিসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ভাষ্যমতে, ‘জেডি এক সময় আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় চলতেন। এখনো তার মনোভাব সেইরকমই। চুয়াডাঙ্গা থেকে যখন খুশি অফিসে আসেন, আবার চলে যান। কখনোই কাউকে পাত্তা দেন না।’
জানা গেছে, মোর্শেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আগে একাধিক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ ও তদন্তও হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়দের প্রশ্ন, ‘একজন কর্মকর্তা এত অনিয়মের পরও কীভাবে বহাল তবিয়তে দায়িত্বে থাকতে পারেন।’ তারা দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘জেডির অপসারণ ছাড়া চিৎলা পাটবীজ খামার বাঁচবে না।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)