ছবির ক্যাপশন:
জীবননগরে ৭ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে খাবারের লোভ দেখিয়ে ফুঁসলিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিহাব (১৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার দিবাগত রাত একটার দিকে জীবননগর পৌরসভার নতুন তেঁতুলিয়া এলাকা থেকে ওই যুবককে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার শিহাব জীবননগর পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন তেঁতুলিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম টেনার ছেলে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার দুপুরে মাদ্রাসা শেষে বাড়ি ফেরার পথে শিশুটিকে একা পেয়ে বার্গার ও চিকেন খাওয়ানোর প্রলোভন দেখায় শিহাব। এরপর সে ও তার সঙ্গে থাকা দুই অজ্ঞাতনামা যুবক মোটরসাইকেলে করে শিশুটিকে ‘দি রয়েল ক্যাফে’ নামের একটি খাবারের দোকানে নিয়ে যায়। সেখান থেকে খাবার খাওয়ানোর পর শিশুটিকে মোটরসাইকেল ও পরে কোলে করে জীবননগর-বাঁকা সড়ক হয়ে ফাঁকা মাঠে খোকন মাস্টারের পরিত্যাক্ত একটি ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ঘরে শিশুটির সঙ্গে শারীরিক নির্যাতনের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে শিহাব ও তার সঙ্গীরা মোটরসাইকেলে করে শিশুটিকে নতুন তেঁতুলিয়া মসজিদের পাশে রেখে চলে যায়।
পরিবারের দাবি, শিশুটি অভিযুক্তদের ভয়ে বিষয়টি গোপন রাখে। কিন্তু শুক্রবার থেকে অসুস্থ হয়ে পড়লে মায়ের জিজ্ঞাসাবাদে সে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর পরিবার স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও সাড়া না পেয়ে রোববার রাতে জীবননগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। শিশুটির মা জানান, শিশুটিকে শিহাব নিজেই কোলে করে পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে শিহাবের সঙ্গে থাকা দুই যুবক বাইরে অবস্থান করছিল।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মামুন হোসেন বিশ্বাস বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযুক্ত শিহাবকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। পরে শিশুটির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ এর ৯/৪ (খ) ৩০ ধারায় একটি ধর্ষণচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। আদালত শিশুটির জবানবন্দী রেকর্ড করেছে এবং অভিযুক্তকে কারাগারে প্রেরণ করেছে।’
এদিকে, এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবার ও স্থানীয়রা দ্রুত বাকি অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
