ছবির ক্যাপশন:
সারাদেশে সংঘটিত নৈরাজ্য সৃষ্টির পেছনে ‘গুপ্ত সংগঠনের’ মদদ রয়েছে-এমন অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশ করেছে ছাত্রদল। বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে এই কর্মসূচিতে তিন জেলার শতাধিক ইউনিটের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। তিন জেলা ছাত্রদলের আয়োজিত পৃথক কর্মসূচিতে একই বার্তা জানানো হয়। নেতারা বলেন, ‘দেশবিরোধী অপতৎপরতা, গুজব ও গুপ্তচর বৃত্তির মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিকে কলুষিত করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। ছাত্রদল সব ষড়যন্ত্রের জবাব রাজপথেই দেবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর অপচেষ্টা রুখে দিতেও ছাত্রদল রাজপথে প্রস্তুত।
চুয়াডাঙ্গা:
কেন্দ্রীয় কর্মসূচি সফল করতে গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদ চত্বরে সমাবেশ করে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদল। সমাবেশের পর একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি সরকারি কলেজ সড়ক, কবরী রোড, পৌরসভা মোড়, শহীদ হাসান চত্বর ও কোর্ট মোড় দোয়েল চত্বর প্রদক্ষিণ করে সাহিত্য পরিষদে ফিরে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিলের পূর্বে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহাজান খানের সভাপতিত্বে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সভাপতির বক্তব্যে শাহাজান খান বলেন, ‘ছাত্রশিবিরের ছেলেরা আওয়ামী লীগের লুঙ্গির নিচে লুকিয়ে ছিল, এখন তারা সেই লুঙ্গির নিচ থেকে মাথা চাড়া দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছে। তারা যে প্রতিবাদের ভাষা ব্যবহার করছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করেছে, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছে, দেশনায়ক তারেক রহমানকে নিয়েও কটূক্তি করেছে। এসব বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও এই দেশের মানুষ মেনে নেবে না। এই দুঃসাহস আপনারা দেখানোর চেষ্টা করবেন না।’
তিনি বলেন, ‘আমার সুযোগ হয়েছিল তিনবার দেশনায়ক তারেক রহমানের সাথে দেখা করার। তিনি বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশে সবকিছু আছে-সোনার খনি, রুপার খনি, তেলের খনি, গ্যাসের খনি-কিন্তু এগুলো উত্তোলনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও দক্ষতা আমাদের দেশে নেই। আমরা যদি পুনরায় ক্ষমতায় যেতে পারি, তাহলে এসবের সঠিক ব্যবস্থাপনা করে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলব।’ এই কথাটাই ভারত এবং তাদের দোসররা সহ্য করতে পারেনি। তাই তারা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাদের নেতাকে হয়রানি করেছে। আমরা সবসময় বলছি, আমরা ১৭ বছর ধরে আমরা নির্যাতিত, কিন্তু জিয়া পরিবার যেভাবে নির্যাতিত হয়েছে, তার ধারে কাছেও আমরা নেই। যে নোংরা রাজনীতি স্বৈরাচারী হাসিনা করে গিয়েছে, সেই নোংরা রাজনীতি আজ জামায়াত-শিবির ফের প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। আমরা তাদেরকে এই নোংরা রাজনীতি করতে দেব না।’
শাহাজান খান আরও বলেন, ‘এনসিপি-চিলড্রেন পার্টির উদ্দেশে বলছি, আপনারা শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে বাঁধা সৃষ্টি করছেন। চুয়াডাঙ্গাতে আপনাদের পদযাত্রা আমরাও দেখেছি। আপনারা শিক্ষার্থীদের তাদের পড়াশোনার সুযোগ না দিয়ে রাজনৈতিক সমাবেশে এনে দাঁড় করিয়েছেন। আপনাদের সঙ্গে জনগণ ছিল না। শিক্ষার্থীদের এনে এসব কর্মসূচিতে দাঁড় করিয়েছে, তাদের বিপদগামী করছেন।’
জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান হাবীব মামুনের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা। ছাত্রদলের সকল নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, ঢাকায় মিটফোর্ড এলাকায় এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। সেই হত্যাকাণ্ডে এজাহারে নাম আসার সঙ্গে সঙ্গেই বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটি থেকে অভিযুক্তদের আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, সারা দেশে বিচারের দাবিতে মিছিল-সমাবেশ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও আমরা দেখছি, একটি ঘাপটি মেরে থাকা রাজনৈতিক দল এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা প্রতিবাদ করুন-আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু প্রতিবাদের ভাষা যেন ভদ্রতা ও সম্মান বজায় রেখে হয়। যারা ক্ষমতায়, তাদের কাছে বিচার না চেয়ে আপনারা বিদেশে চলে যাচ্ছেন, অথচ আমরা দলীয়ভাবে আমাদের সর্বোচ্চটা করেছি। আজ আমরা দেখছি, প্রতিবাদের নামে জাতীয় নেতাদের নিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় কটূক্তি করা হচ্ছে, জিয়াউর রহমানের ছবির ওপর পা দেওয়া হচ্ছে। বন্ধুরা, দয়া করে আমাদের আবেগে আঘাত করবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ এনসিপি’র বন্ধুদের বলছি-আপনারা পদযাত্রা করেছেন, সেটা ভালো কথা। তবে সেই পদযাত্রায় আমরা অনেক ফ্যাসিবাদের দোসরদেরও দেখতে পেয়েছি। আমরা আপনাদের খবর রাখি। আমরা দেখেছি, সদ্য অনুষ্ঠিত একটি প্রতিবাদ সভা থেকে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কটূক্তি করা হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই- এরপর যদি কেউ চুয়াডাঙ্গায় তারেক রহমানকে নিয়ে অশ্রাব্য, বিশ্রি ভাষায় কিছু বলে, তবে তার জবাব জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল দেবে।’
মোমিন মালিতা বলেন, ‘আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমরা অনেক নির্যাতন সহ্য করেও রাজপথে ছিলাম, আছি এবং থাকব-যতদিন না এই ষড়যন্ত্র আর বিকৃত ভাষার রাজনীতি শেষ হয়।’
সমাবেশে এছাড়ও বক্তব্য দেন জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি তৌফিক এলাহী, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক জুয়েল মাহমুদ প্রমুখ। সমাবেশে ছাত্রদল নেতারা আরও বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ও তাদের গুপ্ত সংগঠন ছাত্রশিবির দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তাদের উদ্দেশ্য, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে পুনর্বাসন ও রাজনীতিকে কলুষিত করা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে টার্গেট করে ছাত্রসমাজকে ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে। তারা আরও বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তি আর বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকারের ছত্রছায়ায় এই গুপ্ত সংগঠন আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। আমরা রাজপথে থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।’ সমাবেশের পর অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রদলের জেলা, উপজেলা, পৌর, কলেজ, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড ছাত্রদলের শতাধিক নেতা-কর্মী অংশ নেন। মিছিল থেকে ভেসে আসা বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত হয়।
মেহেরপুর:
কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগেও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে গোপন তৎপরতায় লিপ্ত একটি সংগঠন জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট এবং সারাদেশে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বিপ্লবের নেতৃত্বে মিছিলে অংশ নেন সহসভাপতি জুয়েল রানা, পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব জারজীস ইউসুফ রৌমিক, মেহেরপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফাহিম আহনাফ লিংকন, গাংনী উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রিপন হোসেন এবং গাংনী পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শিশির আহমেদ শাকিল। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ছাত্রদল নেতারা বলেন, ‘একটি স্বার্থান্বেষী মহল শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা সৃষ্টির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করতে চায়। এই ষড়যন্ত্র রুখতে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
ঝিনাইদহ:
গতকাল বিকেলে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে পায়রা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সমিনুজ্জামান সমিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব দেন্য জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মানিক, সহসভাপতি ইমরান হোসেন, ইয়াসিন হাওলাদার নয়ন, কবির হোসেন, জান্নাতুল আলম জিম, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব মিলু, বাবলুর রহমান বাবলু, শাহরিয়ার রাসেল, বখতিয়ার মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহেদ হোসেন, সাইদুর রহমান মিঠু, মুশফিক হাসান তমান, সাকিব আহম্মেদ, ফয়সাল সামী, মেহেদী হাসান ও জুয়েল রানা।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ‘দেশনায়ক তারেক রহমানকে নিয়ে কটুক্তি এবং বিএনপি-যুবদল-ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে মিথ্যা গুজব ছড়ানো হচ্ছে। নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইছে কিছু চিহ্নিত অপশক্তি। আমরা প্রস্তুত, রাজপথেই প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।’
