ছবির ক্যাপশন:
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কুখ্যাত সন্ত্রাসী লিপটন ও তার ঘনিষ্ঠ রাজুকে শৈলকূপার তিন খুন মামলায় পুনরায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কুষ্টিয়া কারাগার থেকে ঝিনাইদহ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। আসামিদের রিমান্ড শুনানি আগামী সপ্তাহে ঝিনাইদহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অনুষ্ঠিত হবে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি হরিণাকুণ্ডুর আহাদনগরের হানেফ আলী, শ্রীরামপুরের লিটন ও কুষ্টিয়ার পিয়ারপুরের রাইসুল ইসলামকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর জাসদ গণবাহিনীর পরিচয়ে কালু নামের এক ব্যক্তি দায় স্বীকার করে ক্ষুদে বার্তা পাঠায়। তদন্তে নেমে পুলিশ ও র্যাব নিশ্চিত হয়, এ হত্যাকাণ্ডে লিপটন সরাসরি জড়িত।
গত ৬ জুন সেনাবাহিনী লিপটনকে তার নিজ বাড়ি থেকে তিন সহযোগী, পাঁচটি অবৈধ অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গুলিসহ আটক করে। এরপর ইবি থানায় অস্ত্র আইনে মামলা হয়। এছাড়া ১০ জুন হাট ইজারাকে কেন্দ্র করে গুলিতে নিহত টুটুল হত্যা মামলায় লিপটনের ঘনিষ্ঠ রাজু গ্রেপ্তার হন। তাকেও একই তিন খুন মামলায় পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ২৫ জুন শৈলকূপা থানা পুলিশ ঝিনাইদহ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লিপটন ও রাজুকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে। আদালত তাদের কুষ্টিয়া কারাগার থেকে ঝিনাইদহে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন।
লিপটনের গ্রেপ্তারের পর কুষ্টিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ৬ জুন ও ১৫ জুন শহরে মানববন্ধন, বিক্ষোভ এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করে কুষ্টিয়ার সচেতন নাগরিক সমাজ। তারা একটি স্মারকলিপি দিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করে।
লিপটনের ভাই আলমগীর কবির বাইরন বর্তমানে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব। জানা গেছে, ২০০৬ সালে ভাইকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেতে সহায়তা করতে চরমপন্থীদের ধরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন লিপটন। এরপর থেকেই প্রশাসনের একাংশের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। লিপটন ৯০ দশকে ছাত্রলীগ করতেন। পরে গণমুক্তিফৌজে যোগ দেন, সেখান থেকে বিতাড়িত হয়ে জাসদ গণবাহিনীর কালুর সেকেন্ড ইন কমান্ড হয়ে ওঠেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন। ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চরমপন্থি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে ভয় তৈরি করেন।
লিপটনের বিরুদ্ধে একাধিক খুন, গুম, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ব্যবসার অভিযোগ থাকলেও দীর্ঘদিন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। ২০০৯ সালে কুষ্টিয়া শহরে তিনজনকে হত্যা করে গণপূর্ত ভবনের সামনে মাথা ঝুলিয়ে রেখে ভয়াবহ বার্তা দেয়। ২০১১ ও ২০১২ সালে ভারতের নদীয়ায় দুই জনপ্রতিনিধিকে হত্যা করে। ২০১৫ সালে গাজীপুর থেকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সবুজকে তুলে নেওয়ার ঘটনায়ও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কুষ্টিয়ায় নানা সময় গুলি, বোমা হামলা ও অপহরণের ঘটনায়ও লিপটনের নাম উঠে আসে।
আওয়ামী লীগ সরকার বিদায় নেওয়ার পর কালুর মাধ্যমে বিএনপির এক নেতার আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে আবার সক্রিয় হন লিপটন। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন জায়গায় হামলা ও গুলির ঘটনায় ফের আলোচনায় আসেন। শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর অভিযানে ৬ জুন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।
