ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানাধীন গহেরপুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক পরিবারের তিনজন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। আহতরা হলেন- গহেরপুর গ্রামের আওলাদ আলীর স্ত্রী চায়না খাতুন (৬০), ছেলে কোরবান আলী (৪৮) ও আহাদ আলী (৪২)। আহাদ আলীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে রাজশাহীতে পাঠানো হয়। এছাড়া প্রতিপক্ষ আতিয়ার রহমানের ছেলে শরিফুল ইসলামও গুরুতর আহত হয়ে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে শরিকানা জমি নিয়ে আওলাদ ও আতিয়ার পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। মামলাও চলমান রয়েছে। জমিতে প্রবেশকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ ঘটে। জখম শরিফুল ইসলামের অভিযোগ, ‘আহাদ, কোরবান ও তাদের লোকজন মামলা চলমান জমি দখলের চেষ্টা করে। গাছ লাগানোয় বাধা দিলে গাছ কেটে দিই। এরপর তারা গালাগাল শুরু করে এবং আমার ওপর হামলা চালায়। আমি পালাতে গিয়ে ধাক্কা দিতে গেলে হাতে থাকা কাঁচি তাদের গায়ে লাগে।’
অপর দিকে, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কোরবান আলী বলেন, ‘মামলার রায় আমাদের পক্ষে যাওয়ায় শরিফুল ও তার লোকজন অতর্কিতে হামলা চালায়। ধারালো হাসুয়া দিয়ে শরিফুল আমাদের রক্তাক্ত করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওরা প্রায় ১ শতকের বেশি জমি জোর করে দখল করেছে। আমার ভাই নিষেধ করায় তারা বাড়ির প্রাচীর টপকে এসে হামলা করে। আমি ঠেকাতে গেলে আমাকেও কোপায়।’
আহতের মা চাইনা খাতুন বলেন, ‘আমি ছেলেদের নিয়ে গেটের কাছে চলে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এসময় ওরা বলে ‘তোদের শেষ করে দেব’, তারপর কচু কাটার মতো কোপাতে শুরু করে। আমাকেও মাথায় কোপ দেয়। আমার ছেলের বউকেও রেহাই দেয়নি।’ পরে স্থানীয়রা চিৎকার শুনে তাদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠায়।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আফরিন ইসলাম বলেন, ‘দুপুরে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় এক নারীসহ তিনজন জরুরি বিভাগে আসেন। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো ও ভোতা জাতীয় উভয় অস্ত্রের জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেলে রেফার্ড করা হয় এবং অন্য দুজনকে ভর্তি রাখা হয়েছে।’
দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহীদ তিতুমীর বলেন, ‘ঘটনা সম্পর্কে জানতে পেরেছি। আহতরা চিকিৎসা নিচ্ছেন, অভিযোগ সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
