ছবির ক্যাপশন:
এক সময় দেশের গ্রামাঞ্চলে আঙ্গুর চাষ কল্পনাই করা যেত না। অথচ সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে তুলেছেন ঝিনাইদহের শৌখিন ও অনুসন্ধিৎসু কৃষকেরা। বর্তমানে ঝিনাইদহ জেলার গ্রামে গ্রামে রীতিমতো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে উন্নত জাতের আঙ্গুর চাষ। থোকায় থোকায় ঝুলছে সবুজ, লাল, খয়েরি আর কালো আঙ্গুর-যা যেন কৃষকের ভাগ্য বদলের বার্তা বয়ে আনছে।
জেলার মহেশপুর, হরিণাকুণ্ডু, কোটচাঁদপুর, কালীগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে শৌখিন এ চাষ এখন বাণিজ্যিক দিকে অগ্রসর হচ্ছে। একোলা, বাইকুনুর, জয়সিডলেস, ভ্যালেজ, ব্ল্যাক ম্যাজিক, সিলভা, অনুশুকা, মালিকচুমাং, ভাইকিং, অস্ট্রেলিয়াকিং, আর্লি রেডসহ ১৬টিরও বেশি উন্নত জাতের আঙ্গুর চাষ হচ্ছে কৃষকের জমিতে।
হরিণাকুন্ডু উপজেলার মুন্না জোয়ারদার নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে তার আঙ্গুর বাগানে তৈরি করেছেন দৃষ্টিনন্দন মাচা। বাঁশের ফ্রেমে ঝুলে থাকা সবুজ আঙ্গুর দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। সঙ্গে আঙ্গুর চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন স্থানীয়রাও।
কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের ঘোপপাড়া গ্রামের ইসলাম বিশ্বাসের ছেলে আল-আমিনের ক্ষেতেও দেখা গেছে একাধিক জাতের আঙ্গুর। লাল, সাদা, কালো থোকায় থোকায় ফল ধরে আছে। একই উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের সাখাওয়াত শেখ, ঘোপপাড়ার আল-আমিন, বনখিদ্দার আবু জাহিদ, গোমরাইলের ইমদাদুল হক, বড় ঘিঘাটির নজরুল হক, নুরুল ইসলাম, ইমরান হোসেন ও নলভাঙ্গার মমিনুর রহমানসহ আরও অনেকেই এই আঙ্গুর চাষে যুক্ত হয়েছেন।
চাষি নুরুল ইসলাম জানান, তিনি ৩৩ শতাংশ জমিতে ১৬ জাতের আঙ্গুর চারা রোপণ করেছেন। তার খরচ হয়েছে প্রায় ৬ লাখ টাকা। অন্যদিকে চাষি ইমরান হোসেন জানান, তিনি ১৬ শতক জমিতে ৮০টি গাছের সাতটি প্রজাতি চাষ করেছেন এবং ইতিমধ্যে ৩১০ টাকা কেজি দরে প্রায় ২০ কেজি আঙ্গুর বিক্রি করেছেন।
মহেশপুর উপজেলার যুগীহুদা গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ চাষ করছেন প্রায় ৫০০ গাছ, যার মধ্যে ইউরোপ-আমেরিকার ১০-১২টি জাত রয়েছে। তার তিন বিঘা জমির বাগানে প্রতিদিন ২০-৩০ ক্যারেট আঙ্গুর ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই বাগান দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন শত শত মানুষ।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বেতাই দুর্গাপুর গ্রামের কৃষক আরিফুল ইসলাম পরীক্ষামূলকভাবে আঙ্গুর চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। এখন তিনি বাগান সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছেন। কোটচাঁদপুর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ লিটন ১৭ শতক জমিতে এক লাখ টাকা বিনিয়োগে আঙ্গুর চাষ করে ইতোমধ্যে দেড় লাখ টাকার আঙ্গুর বিক্রি করেছেন।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ষষ্টি চন্দ্র রায় জানান, জেলায় প্রায় ২০ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আঙ্গুর চাষ হচ্ছে। এখানকার মাটি আঙ্গুর চাষের উপযোগী। সুস্বাদু এবং ভালো ফলনের কারণে দিন দিন এ চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তিনি আরও জানান, চাষিদেরকে কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
