ছবির ক্যাপশন:
ঝিনাইদহের রাজনীতির মাঠে আবারও দেখা গেল পরিচিত এক ‘রঙ বদলানোর’ চিত্র। ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নজরুল ইসলাম দুলালের ছোট ভাই মৎস্যজীবী লীগের নুরে আলম বিশ্বাস ওরফে আলম বিশ্বাস ঘটা করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগ দিয়েছেন। নিষিদ্ধ দলের এক সমর্থক ইসলামী আন্দোলনে যোগদান নিয়ে জেলাব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়েছে। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, নুরে আলম বিশ্বাস ওরফে আলম বিশ্বাস একসময় আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তিনি মৎস্যজীবী লীগের নেতা হিসেবে শৈলকূপা উপজেলা নির্বাচনে ভোট করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবে তার সেই খায়েশ অপূর্ণ থেকে যায়। তিনিই এখন হয়ে উঠেছেন ইসলামপন্থী রাজনীতির পরিচিতি মুখ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ শহরের মডার্ন মোড়ের একটি অফিসে ইসলামী আন্দোলনের অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন আলম বিশ্বাস। সেই আলোচনা অনুষ্ঠানের পর থেকে তিনি এখন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উপদেষ্টার দায়িত্বও পেয়েছেন। ঝিনাইদহ জেলা শাখার উপদেষ্টা হিসেবে শপথও গ্রহণ করেন তিনি। তবে তার এ ধরনের অবস্থান পরিবর্তনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ঝিনাইদহ ও শৈলকূপার অনেক মানুষ আলম বিশ্বাসের এই ঢিগবাগী নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, ‘ক্ষমতার পালা বদল দেখে অনেকে নিজের চেহারা বদলাতে শুরু করেছেন। এইসব সুবিধাবাদীরা রাজনীতিকে কলুষিত করছে। দলের সুসময়ে এসব নেতা ক্ষমতার মাখন খেয়েছেন। আর দলের দুঃসময়ে ধর্মের নামে নতুন মঞ্চে উঠে অপকর্ম ঢাকতে চাচ্ছেন।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ‘রাজনৈতিক রূপ পরিবর্তন’ গণতন্ত্র ও দলীয় শৃঙ্খলার জন্য হুমকি। তাছাড়া ফ্যাসিস্ট একটি দলের সদস্যকে কীভাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গ্রহণ করলো, তা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। অনেকে সমালোচনা করে বলছেন, রাজনীতিতে আদর্শের জায়গা দখল করে যদি কেবল সুবিধা আর পদ-লাভ হয়, তাহলে ভবিষ্যতে জনআস্থা হারাবে সব রাজনৈতিক দলই।
আওয়ামী লীগ থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে আলম বিশ্বাস বলেন, ‘আমি বরাবরই মসজিদ-মাদ্রাসা নিয়ে কাজ করি। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগদান করেছি।’ আলম বিশ্বাস মৎস্যজীবী লীগ করতেন কী কারণে, সেই ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, নিজে শৈলকূপা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট করার জন্য মূলত মৎস্যজীবী লীগ করতেন।
এ ব্যাপারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঝিনাইদহ জেলা শাখার সভাপতি ডা. এইচ এম মোমতাজুল করীম বলেন, ‘আলম বিশ্বাস দলবল নিয়ে চরমোনাই গিয়ে নায়েবে আমির ও পীর সাবেহের কাছে সদস্য ফরম পূরণ করার পর আমরা তাকে গ্রহণ করি। তার আগে আমরা গ্রহণ করিনি।’ তিনি বলেন, ‘দাওয়াতের মাধ্যমে তিনি সেখানে গেছেন। এ বিষয়ে পীর সাবেহ বলতে পারবেন, আমরা আর কিছুই বলতে পারবো না।’
